উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র রাজশাহীতে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১০ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৮৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, রাজশাহী জেলা ও এর আশপাশের প্রায় ২ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে ১ হাজার ২০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিষয়ক জনবলের শিক্ষা/দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চিকিৎসাসেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা।
রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় ৬৭ দশমিক ৭৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। এই প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৩৩ হাজার ৭০৭ বর্গমিটার অনাবাসিক ভবন (১৬টি) ও ১ লাখ ৬ হাজার ৮ বর্গমিটার আবাসিক ভবন (৫টি) নির্মাণ, ৬ হাজার ১৮টি চিকিৎসা/শল্যচিকিৎসা সরঞ্জাম ও ২২ হাজার ৬৭৬টি আসবাব ক্রয়, ৬টি যানবাহন ক্রয় (২টি জিপ, ২টি মাইক্রোবাস, ১টি সিঙ্গেল কেবিন ও ১টি ডাবল কেবিন পিকআপ), ১ হাজার ৯৪৫টি অফিস ও আইসিটি সরঞ্জাম, ৫০টি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ৪টি আইসিটি সফটওয়্যার ক্রয়।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটির সুপারিশে মত দিয়ে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজশাহী জেলা ও এর আশপাশের প্রায় ২ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভাগ চালুকরণ এবং উন্নতমানের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গবেষণার মাধ্যমে চিকিৎসা জনশক্তি ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের আওতায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃক সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটি মোট ১ হাজার ৮৬৭ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০২২ হতে জুন ২০২৬ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য একনেকে সুপারিশ করা হয়েছে।
একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৫ হাজার ১৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৪ হাজার ৯৫৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো : সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্প যথাক্রমে ‘নলকা-সিরাজগঞ্জ-সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ ৪ লেনে উন্নীতকরণ ও অবশিষ্ট অংশ ২ লেনে উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; ‘বগুড়া শহর থেকে মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ (এন-৫১৯) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প, কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন গৌরীপুর-আনন্দগঞ্জ-মধুপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-হোসেনপুর জেলা মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প, বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষ্মীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরীগঞ্জ জেলা মহাসড়কের (জেড-২৮০৭) দিরাই শাল্লা অংশ পুনর্নির্মাণ’ প্রকল্প; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি (সংশোধিত ৪৬টি) উপজেলা সদর/স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প; জ¦ালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প ‘মডার্নাইজেশন অব পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন-স্মার্ট গ্রিডস ফেজ ১’ প্রকল্প এবং বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আধুনিকায়ন (ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগ) প্রকল্প; ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (ষষ্ঠ পর্যায়)’ প্রকল্প এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) স্থাপন’ প্রকল্প।
পদ্মা সেতুর খরচ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। অনেকে বলছে, এখন ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা হলো কেন? অর্থনীতির ভাষায় প্রতি পাঁচ বছরে মূল্যস্ফীতি ডাবল হয়। এসব কারণে এটা বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ধরলে ব্যয় ঠিক হয়েছে। ১৩ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। এ কারণে ব্যয় বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ধরলে মূল খরচই হয়েছে।
ড. শামসুল আলম আরও বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। কেউ কেউ দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল। তবে দুর্নীতি কানাডার কোর্টে প্রমাণ হয়নি। অনেকে সেতু নির্মাণে বাধা দিয়েছে। নানা কারণে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করেছি। প্রতিকূল অবস্থায় সেতু বাস্তবায়ন হয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর আবেগ ও উচ্ছ্বাসের ব্যাপার।