নরসিংদীর পলাশের ইছাখালি ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির (ম্যানেজিং কমিটি) সদস্য আবদুর রহিম পাঠানের বিরুদ্ধে। গত সোমবার বিকেলে গজারিয়া ইউনিয়নের তালতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার অধ্যক্ষ আ. ক. ম রেজাউল করিম এ বিষয়ে পলাশ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অধ্যক্ষ রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, ইছাখালি ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে কয়েক মাস ধরে এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। সেই সুযোগে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রহিম পাঠান মাদ্রাসার রসিদ বই নিয়ে গিয়ে কোনো হিসাব দিচ্ছিলেন না। এ নিয়ে আবদুর রহিম পাঠানের সঙ্গে তার কয়েকবার কথাকাটাকাটি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আবদুর রহিম পাঠান বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য সোমবার সকালে তার ছেলে (মাদ্রাসাটি দাখিল দশম শ্রেণির ছাত্র) মেহেদী পাঠানকে মাদ্রাসায় পাঠায়। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরুর ১০ দিন আগেই মাদ্রাসার বেতন, সেশন চার্জ ও পরীক্ষার ফিস পরিশোধ করার নোটিস থাকার পরও পরীক্ষার দিন (সোমবার) সকালে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে অনুরোধ করেন মেহেদী পাঠান। এ সময় তাকে তার বাবাকে মোবাইল ফোনে কল করে ডেকে আনার কথা বলেন অধ্যক্ষ রেজাউল করিম। এর কিছুক্ষণ পর আবদুর রহিম পাঠান মাদ্রাসায় এসে অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকেই দুর্ব্যবহার শুরু করেন। পরে অধ্যক্ষ রেজাউল করিম এক সহকারী শিক্ষকের মোটরসাইকেলে বাড়ি যাওয়ার জন্য মাদ্রাসা থেকে বের হন। মাদ্রাসার বাইরে বের হলে আগে থেকেই অপেক্ষায় থাকা আবদুর রহিম পাঠান মোটরসাইকেলটির গতিরোধ করে রাস্তায় ফেলে অধ্যক্ষকে পেটাতে থাকেন। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তিনি পালিয়ে যান।
তবে অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুর রহিম পাঠান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরীক্ষার দিন আমার ছেলেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি রাস্তায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করার জন্যই মোটরসাইকেল থামাতে বলেছিলাম। উনাকে (অধ্যক্ষ) কোনো মারধর করা হয়নি।’
পলাশ থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, মারধরের ঘটনায় অধ্যক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পলাশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিলন কৃষ্ণ হালদার বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবদুর রহিম পাঠান তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে বলে অধ্যক্ষ আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে তাকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও পরবর্তী মিটিংয়ে জানানোর জন্য বলা হয়েছে। আর আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’