২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২৩২

আবার কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ

দেশে আবার করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আগের মতোই সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানার পরামর্শ দিয়েছে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করা যেতে পারে বলেও মত দিয়েছে কমিটি।

পরামর্শক কমিটি বলেছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনসাধারণকে আবার উদ্বুদ্ধ করতে সব ধরনের গণমাধ্যমে অনুরোধ জানাতে হবে। সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা, ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি প্রয়োগ করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম বর্জন করা প্রয়োজন। ধর্মীয় প্রার্থনার স্থান (যেমন- মসজিদ, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি) গুলোতে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা দরকার।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে করোনার সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লার সভাপতিত্বে সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে গতকাল বুধবার গণমাধ্যমকে জানায় কমিটি। 

পরামর্শক কমিটি জানিয়েছে, যাদের জ্বর, সর্দি, কাশি হচ্ছে তারা অনেকে কভিড টেস্ট করছেন না। এতে করোনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। এ জন্য যাদের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে এবং যারা কভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে আসছেন, তাদের টেস্ট করার জন্য অনুরোধ করতে হবে।

কমিটি আরও জানায়, কভিড-১৯ জীবাণুর ভেরিয়্যান্ট ও সাব-ভেরিয়্যান্ট সংক্রমণের হার বেশি এমন দেশ থেকে বাংলাদেশে মানুষ আসছে। এ জন্য বিমান, স্থল ও নৌ-বন্দরগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে কভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ ও টিকা সনদ আবশ্যক করতে হবে। অধিক আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আগত যাত্রীদের জন্য, বিশেষ করে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের র‌্যাপিড টেস্ট করার ব্যবস্থা করতে হবে। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

কমিটি পরামর্শ দিয়ে বলে, যারা এখনো করোনা টিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ নেননি, তাদের টিকা নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী করতে হবে। ৫-১২ বছর বয়সী শিশুদের করোনার টিকা দেওয়ার ব্যাপারে জাতীয় টিকাদান টেকনিক্যাল উপদেষ্টা গ্রুপের (এনআইটিএজি) পরামর্শ অনুসরণ করা দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চতুর্থ ডোজ অনুমোদন করলে তা বিবেচনা করতে হবে। কভিড-১৯ এর ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করার জন্য সম্ভাব্যতা বিবেচনা করা দরকার। ভ্যাকসিন পরবর্তী প্রতিরোধ ক্ষমতা কতদিন বজায় থাকছে সে সম্বন্ধে গবেষণা করা প্রয়োজন।

পরামর্শক কমিটি আরও বলে, কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য যে বিশেষ শয্যা, আইসিইউ ব্যবস্থা ও জনবল ছিল, তা বর্ধিত হারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২৩২ : দেশে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৩২ জন। এ সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৬৩৭ এবং মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ১৩১ জনের। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৯৯ হাজার। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ।