অস্ট্রেলিয়ার ধর্ষণ আইনে সংস্কার আনালেন মুলিন্স

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশে ধর্ষণ সংক্রান্ত ‘অ্যাফার্মেটিভ কনসেন্ট’ নামে নতুন এক আইন করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পূর্বমুহূর্তে দু’জনকেই ‘ইতিবাচক সম্মতি’ দিতে হবে। সিডনির বাসিন্দা আলবেইট স্যাক্সন মুলিন্সের অদম্য লড়াইয়ে এ আইনটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  লিখেছেন নাসরিন শওকত

ধর্ষণ আইনে সংস্কার

চোখেমুখে রঙিন স্বপ্নমাখা এক তরুণী। একসময় যিনি তার প্রিয় মানুষটির সঙ্গে রোমান্টিক মুহূর্তগুলো কতটা রোমাঞ্চকর হবে ভেবে শিহরিত হতেন। কিন্তু ২০১৩ সালের কিছু মুহূূর্তের একটি ঘটনা তার সেই স্বপ্নকে ভেঙেচুরে শেষ করে দেয়। ঘটনার দিন তিনি সিডনির একটি পানশালার বাইরের সরু এক গলিতে সদ্যপরিচিত এক তরুণের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েই ধর্ষণের শিকার হন। সেদিনের সেই ধর্ষণের শিকার হওয়া তরুণীর নাম আলবেইট স্যাক্সন মুলিন্স। তিনি সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলসের কেন্দ্রীয় উপকূলের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে। তারপর থেকে ২০১৩ সালের ওই ঘটনাকে তিনি ধর্ষণ হিসেবেই মেনে এসেছেন।

পরে স্যাক্সন মুলিন্স ২০১৩ সালের ওই ঘটনাকে ধর্ষণ দাবি করে মামলা করেন আদালতে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আদালতে দুই দফায় ওই মামলা চলে। বিচারক ২০১৮ সালে করা এ মামলার রায় দেন এ বছরের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। বিচারক ওই রায়ে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে মুলিন্সের যে সম্মতি ছিল না, সে সময় অভিযুক্ত তা উপলব্ধি করতে পারেননি। অর্থাৎ এবার মামলার আসামি মুক্তি পেলেন। পাঁচ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মুলিন্স সেদিন পরাজিত ও ক্ষমতাহীন এক নারী হিসেবে আদালত থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। তারপর মুলিন্স অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান ধর্ষণ আইন পরিবর্তনের দাবিতে নতুন লড়াই শুরু করেন। সে সময় তিনি এ আইনের সংশোধন করে দু’পক্ষের সম্মতির বিধান চান। মুলিন্স এ বিধানের পক্ষে জনমত গড়তে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণাও চালিয়ে গেছেন। তার অদম্য প্রচেষ্টায় দীর্ঘ এ লড়াইয়ের পর  অস্ট্রেলিয়ার সরকার দেশের বিদ্যমান ধর্ষণ আইনের সংশোধন করে সম্মতির বিধান নিয়ে এসেছে। এ ধর্ষণ আইনে কয়েক দিন আগে পরিবর্তন এসেছে। নতুন এ আইনের আওতায় মুলিন্সের ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত নতুন করে শাস্তি পেয়েছেন। এখন কারাগারে আছেন। সদ্য সংস্কার হওয়া আইন সম্পর্কে বর্তমানে ২৭ বছরের মুলিন্স বলেন, ‘আইনের এ সংস্কার অসংখ্য মানুষের জন্য ছোট্ট একটি ন্যায় এনে দিয়েছে। এটাকেই বলে স্বীকৃতি।’

নারীর নিরাপত্তা

ওইসিডির তথ্য মতে, নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতায় জি-২০ দেশের তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার স্থান অষ্টম। অস্ট্রেলিয়া পশ্চিম ইউরোপের দেশ। ৭৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৩০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দেশটিতে প্রায় ৩ (২৫.৬৯ মিলিয়ন) কোটি মানুষের বাস। ইউরোপের অতি উন্নত ও উচ্চ আয়ের এই দেশটিতে নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্রও বেশ চমকে দেওয়ার মতো। অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর সবশেষ তথ্য মতে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি তিনজন নারীর একজন শারীরিক নিপীড়নের শিকার হন। আর পাঁচজনের মধ্যে একজন হন যৌন সহিংসতার শিকার। এমনকি দেশটির আদিবাসী ও টোরেজ দ্বীপবাসী নারীদের বেলায় এই হার আরও বেশি। ওই পরিসংখ্যান থেকে আরও জানা যায়, প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে একজন অপরিচিত কারও দ্বারা সহিংসতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। অস্ট্রেলিয়ার সমাজে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা আরও সাধারণ বিষয়। গড়পড়তা প্রতি সপ্তাহে একজন নারী তার সাবেক পুরুষ সঙ্গীর হাতে হত্যার শিকার হন।

পাঁচ বছরের লড়াই

১৮ বছরের মুলিন্সকে ২০১৩ সালে লুক লাজারাস নামের সিডনির এক ধনী ছাত্র জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর মুলিন্স আদালতে ধর্ষণের মামলা করেন। লাজারাস মামলার প্রথম থেকেই জোর দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, ওই দিনের ঘটানাটি একটি ভয়ানক ভুল বোঝাবুঝি ছিল। যার জন্য তিনি ভীষণভাবে অনুশোচনা করেছেন। কিন্তু মুলিন্সের কাছে তার প্রথম পাঁচ বছরের আইনি লড়াই ছিল অনেকটা যুদ্ধের মতো। দুই দফায় এ মামলা চলে। প্রথম বার জুরির সামনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু ওই সময়ের যৌনমিলনে মুলিন্সের সম্মতি ছিল কি নেই, তা প্রমাণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। জুরিদের সামনে সে সময়ে দেওয়া সাক্ষ্যে মুলিন্স বলেছিলেন, ‘আমি তাকে ‘না’ বলার পরও সে আক্রমণ চালিয়ে গেছে। বারবার নিষেধ করায় সে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে আমার ওপর জোর খাটায়। আমি বলি, বন্ধু নাইট ক্লাবে অপেক্ষা করছে। ছেড়ে দাও। তারপরও সে আমাকে ছেড়ে দেয়নি...।

প্রথম দফার এ বিচারে বিচারকরা পাঁচ বছরের কারাদ- দেন অভিযুক্তকে। মুলিন্স সে সময় বিচারপতিদের জানিয়েছিলেন, এই বিচারে তিনি খুশি হয়েছেন। কিন্তু এরপরই মুলিন্স দাবি করেন, অভিযুক্তকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তার নিজেকেও দোষী মনে হচ্ছে। কারণ তার মনে হয়েছে এ শাস্তির জন্য ওই তরুণের জীবন শেষ হয়ে যাবে। এবার মুলিন্স বিচারকদের কাছে দেশের আইনের সংস্কারের দাবি তোলেন। তিনি জানান, দু’জন মানুষ তাদের একান্ত মুহূর্ত কাটানোর আগে পরস্পরের সম্মতি নেবেন। এভাবে একজনকে শাস্তি দিলে সমাজে পরিবর্তন আসে না!

তবে অভিযুক্ত তরুণ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সফল হন। কিন্তু মুলিন্সের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের দ্বিতীয় দফার বিচার শুরু হয়। এবার মুলিন্সকে একা একজন বিচারকের সামনে সাক্ষ্য দিতে হয়। তবে দ্বিতীয় বিচারের রায়ে অভিযুক্ত লুক লাজারাসকে দোষী সাব্যস্ত না করে বেকসুর খালাস দেন বিচারক। সে সময় মুলিন্স দেখছিলেন তার জীবন তছনছ করে দেওয়া এক অপরাধী তার তিন হাত দূরে দাঁড়িয়ে হাসছেন। এ বিচার তাকে ভীষণভাবে হতাশ করেছিলেন! এর পর থেকে মুলিন্স অস্ট্রেলিয়ার ধর্ষণ আইনের সংস্কারের দাবিতে নানা প্রচার প্রচারণা শুরু করেন। ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের এক অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মুলিন্সের ওই বক্তব্য অস্ট্রেলিয়ার আইনি মহলে আলোড়ন তোলে। দুঃস্বপ্নময় দীর্ঘ পাঁচ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর মুলিন্স তার সত্যিকারের বিচার পান অস্ট্রেলিয়ার সরকারের কাছ থেকে। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল হিসেবে কয়েক দিন আগে ধর্ষণের আইনে পরিবর্তন এসেছে।

ইতিবাচক সম্মতি

অস্ট্রেলিয়ায় এর আগে ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনে সম্মতির কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের কিছু কিছু প্রদেশ বা রাজ্যে ধর্ষণের ভিন্ন ভিন্ন মানে রয়েছে। সেখানকার বিদ্যমান আইনে ধর্ষণ মানে শুধু যৌন হেনস্তা নয়। যৌনতার ধরন কেবল ভয়ংকর বা হিংসাত্মক হলেই তাকে ধর্ষণের আওতায় ফেলা হয়।

নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের প্রদেশ। এদেশের সবচেয়ে জনবহুল ও পুরনো প্রদেশ। ৮ লাখ ৯ হাজার ৯৫২ বর্গ কিলোমিটারের এ প্রদেশটিতে মোট ৮ কোটি ১০ লাখ (৮.১ মিলিয়ন) মানুষের বাস। এর রাজধানী শহর সিডনি। নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশে ধর্ষণ সংক্রান্ত যে নতুন আইন করা হয়েছে তার নাম ‘অ্যাফার্মেটিভ কনসেন্ট’ (ইতিবাচক সম্মতি)। অর্থাৎ সঙ্গীর কাছ থেকে কেবল সম্মতি পেলেই চলবে না। নতুন এ আইনের আওতায় যৌন সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী একজন ব্যক্তিকে তার সঙ্গীর কাছ থেকে অবশ্যই ইতিবাচক সম্মতি আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফোন বা বার্তার মাধ্যমে আলাপ চালিয়ে সঙ্গীর ইচ্ছা বা অনিচ্ছা জেনে নেওয়া যেতে পারে। অথবা অন্য কোনো উপায়ও অবলম্বন করা যেতে পারে। যৌনমিলনের আগে সম্মতি নেওয়া একান্তভাবে জরুরি। এর আগে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তরা এমন যুক্তি দিতে পারতেন যে, তারা যৌক্তিকভাবেই বিশ^াস করতেন যে সঙ্গীর সম্মতি পেয়েছিলেন তিনি। এমনকি ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন ওই অভিযুক্ত সঙ্গীর সম্মতি আদায়ের জন্য কোনো চেষ্টা না করেই এমন যুক্তির অবতারণা করে থাকেন। মূলত, সম্মতি বলতে এখন একজন ব্যক্তি যৌনমিলনের জন্য ‘হ্যাঁ’ বলছে কি না তার ওপর নির্ভর করছে। ‘না’ বলার মানে হলো তার সম্মতি নেই।

 আইনের সংস্কার শুরু যেভাবে

মুলিন্স সমাজে নির্যাতনের শিকার নারীদের পাশাপাশি এ বিষয় নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন। তার এ লড়াই ছিল মূলত অস্ট্রেলিয়ায় বিদ্যমান ধর্ষণ আইন সংস্কার করার জন্য। এ লক্ষ্যে মুলিন্স দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আদালতে লড়াই করেছেন। তার সংগ্রামের ফল হিসেবেই এ বছরের ২ মে নতুন আইনটি কার্যকর হয়েছে। তাই মে’র প্রথম সপ্তাহটি মুলিন্সের জন্য খুবই আবেগের একটি সপ্তাহ ছিল। নিজের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মুলিন্স বলেন, ‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তার কিছুই আমি পরিবর্তন করতে পারিনি। তবে যদি (এই আইনের) কারণে আগামীতে অন্য কারও সঙ্গে ঘটতে যাওয়া এমন একটি ঘটনাও থেমে যায়, তাহলে অবশ্যই এই আইন আমাদের সবার কাছে মূল্যবান হয়ে উঠবে। এমন একটি ঘটনার (ধর্ষণ আইন সংস্কারের) অংশ হয়ে আমি নিজেকে গর্বিত বোধ করছি।’ 

তবে এই আইন সংস্কারের লড়াই চালাতে গিয়ে মুলিন্সকে প্রচারণায় নামতে হয়েছিল। আর এই প্রচারণার জন্য তাকে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। প্রগতির পথপ্রদর্শক হিসেবে কখনো তাকে হতাশা, কখনো বা প্রশংসা আবার প্রায় সময়ই বাজে ব্যবহার ও নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু এই লড়াইয়ের পুরোটা সময় মুলিন্স বারবার তার গল্প বলে গেছেন। এমনকি কখনো কখনো যেন সেই ভয়ংকর অতীতেই আবার ফিরে গেছেন মুলিন্স।

সে সময়ের হতাশার দিনগুলোর কথা জানাতে গিয়ে মুলিন্স বলেন, ‘কখনো কখনো আমি চিন্তা করেছি যে সব কিছু থেকে সরে আসব হয়তো। যা হয়েছে তা হয়তো অনেক বেশিই হয়ে গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে, আমি কখনোই তা করতে পারব না।’ তার অভিমত, নতুন করে কার্যকর হওয়া ইতিবাচক সম্মতির এই আইনের দেশজুড়ে প্রচার করার ক্ষেত্রে আরও অনেক কাজ করা বাকি আছে এখনো। এর মধ্যে রয়েছে- বিচারিক ব্যবস্থায় নির্যাতনের শিকারের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হয় তার সংস্কার করা এবং অস্ট্রেলিয়ায় যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ বিস্তার হ্রাস করা।

মুলিন্স আরও বলেন, ‘যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা বিচার পাচ্ছেন এটা খুব ভালো। কিন্তু তারপরও এখনো তারা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। আর এটাই আমরা এখন বন্ধ করার চেষ্টা করছি।’

আইন নিয়ে বিতর্ক

অস্ট্রেলিয়ায় এরই মধ্যে নতুন এই আইন নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। তবে সমালোচকদের কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, ধর্ষণের বিষয়ে সংস্কার আইনটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে। নতুন আইনটি এটি স্পষ্ট করছে যে, সম্মতি যে কোনো সময় তুলে নেওয়া হতে পারে। তার মানে একটি যৌনকাজের জন্য সম্মতি দেওয়ার মানে আরেকটি কাজের সম্মতি দেওয়া নয়। এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বার অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, এই আইনের যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে তার মাধ্যমে ‘সমস্যা ছাড়া অন্তরঙ্গ কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকা একটি শ্রেণিকে অপরাধী করে তুলবে। বিশেষ করে এই আইনই শ্রদ্ধার সম্পর্ককে প্রতিষ্ঠিত করবে।’ তবে অন্যরা দাবি করেছিলেন, সাবেক পুরুষ সঙ্গী এই আইনের অপব্যবহার করে তার নারী সঙ্গীর ওপর প্রতিশোধ নিতে চাইছেন। অথবা এটি এরই মধ্যে চাপের মুখে ফৌজদারি বিচার (ক্রিমিনাল জাস্টিস) ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে অস্ট্রোলিয়ার বিখ্যাত আইনজীবী ও ব্যারিস্টার মার্গারেট কানিন যুক্তি  দেখিয়েছিলেন, সংস্কার হওয়া আইনগুলো ‘প্রমাণ থাকা প্রকৃত মামলাগুলোকে’ বিলম্বিত করবে। ব্যারিস্টার মার্গারেট বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী সাবেক রাগবি লীগ ও এনএফএল খেলোয়াড় জারিড হেইন-এর বিরুদ্ধে চলমান ধর্ষণ মামলায় আইনি সহায়তা দিচ্ছেন। মার্গারেট বলেন, ‘সত্যিকারের যৌন নির্যাতনের শিকারদের জন্য (এই বিলম্ব) খুব অন্যায় হবে। এবং যারা অন্যায়ভাবে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন, তাদের এই মামলা থেকে নিজেকে বের করে নিয়ে আসতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’ তবে এক্ষেত্রে মুলিন্স বলেছেন, ব্যারিস্টার মার্গারেটের মতোই এই সংস্কার আইনের অন্য সমালোচকরা এই ভেবে অসন্তষ্ট হয়েছেন যে, এখন তাদের একটু বেশিই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কারণ তাদের বেশির ভাগেরই  যুক্তি ‘অবাস্তব’। বাস্তবে অনেক বছর আগে থেকেই এই আইনটি তাসমানিয়াতে বিদ্যমান রয়েছে। মুলিন্স আরও বলেন, ‘সম্মতিমূলক যৌন কর্মকা-ে আদালতের সামনেই প্রমাণ হয় না এটি সম্মতিপূর্ণ। অন্যদের তুলনায় কোনো কোনো যৌন নির্যাতনের শিকার আদালতের বেশি সময় পাওয়ার যোগ্য নন বলে আইনজীবীদের দেওয়া পরামর্শ ‘এক অবিশ^াস্য ধরনের অপরাধ’। এবং এই বিষয়টির উল্লেখ করেন যে, যৌন হয়রানির রিপোর্টের ক্ষেত্রে খুব কম সংখ্যক নারীই মিথ্যা দাবি করে থাকেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষে

উদ্ধৃতি থেকে জানা যায়, বেশির ভাগ যৌন নির্যাতনের শিকার নারীই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন না। এর মধ্যেও যারা অভিযোগ করেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ অভিযুক্ত শাস্তি পেয়ে থাকেন। একজন নারী যদি নির্যাতনের শিকার হিসেবে নিজেকে দাবি করেন তবে তাকে ফৌজদারি মামলার ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

এ ধরনের মামলার মান অনুযায়ী, ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সম্মতির এই সংস্কার আইনটি আগামী তিন বছর পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এনএসডব্লিউ-এর মুখপাত্র অ্যাটর্নি জেনারেল মার্ক স্পিকম্যান এ সংস্কার আইনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি এ সংস্কারকে ‘সাধারণ বোধ’ ও ‘সাধারণ’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ধর্ষণের মতো গুরুতর বিষয় সম্পর্কে স্পিকম্যান বলেছেন, ‘এই কর্মকা-গুলো আইনবিদের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা কোনো বিষয় নয়। এগুলো মৌলিক শালীনতা সম্পর্কিত বিষয়।’

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিতর্কিত এই ধর্ষণ মামলার কেন্দ্রে থেকে স্যাক্সন মুলিন্স দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। মুলিন্সকে সিডনির কিংস ক্রস পানশালার পেছনের সরু গলির ওই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার ধর্ষণ আইন সংস্কারে অনুপ্রাণিত করেছিল।মুলিন্স তার দীর্ঘ লড়াইয়ে আইনের দরজায় বারবার কড়া নেড়েছেন। এতে তিনি তার জীবনের বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময় যেমন ব্যয় করেছেন তেমনি ব্যয় করেছেন অর্থও।

স্যাক্সন মুলিন্স বর্তমানে সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ২০১৮ সালে ইয়াং পিপলস হিউম্যান রাইটস মেডেল পান। মুলিন্স অস্ট্রেলিয়ার ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি (আরএএসএআর এ) সংস্থায় অ্যাডভোকেসি বিভাগে সহপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশের বিদ্যমান নারী বীমা আইনে সমতা আনার লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের জন্য একটি উন্নয়ন সংস্থাও প্রতিষ্ঠা করেছেন।