ক্যাম্পে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলি দুই রোহিঙ্গা আটক

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে (ক্যাম্পে) সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যদের গোলাগুলি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্প-১৮-এর একটি ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রাইফেল ও একটি বিদেশি পিস্তল এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ইয়াবা জব্দ করা হয়। এছাড়া একই দিন রাতে অন্য একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে চারটি দেশি বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উখিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান ৮-এপিবিএনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান।

আটক দুজন হলো উখিয়ার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-ই/৬-এর বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন (৩০) ও একই ক্যাম্পের জাহেদ হোসেন (৩০)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ১৫-২০ জনের একটি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ ক্যাম্প-১৮ থেকে ক্যাম্প-২০-এর দিকে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়। এমন তথ্যের ভিত্তিতে এপিবিএন সদস্যরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে ক্যাম্প-১৮-এর বিভিন্ন ব্লকে অবস্থান নেন। পরে রাত ১০টার দিকে পাঁচ-ছয়জন লোককে ক্যাম্প-২০-এর দিকে আসতে দেখে তাদের চ্যালেঞ্জ করেন এপিবিএন সদস্যরা। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে এপিবিএন সদস্যরাও পাল্টা পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান। তখন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। উভয়পক্ষের গোলাগুলির ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পলিথিনে  মোড়ানো একটি এসল্ট রাইফেল ও  ৪৯১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে একই দিন রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্প-১৮ থেকে ক্যাম্প-১৫-এর ই/৬ ব্লকে দুজন পালিয়ে এসেছে বলে সংবাদ পাওয়া যায়। এ তথ্য পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই রোহিঙ্গাকে আটক এবং তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও ৬ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর আগে এপিবিএন সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির সময় আটক দুজন সেখানে ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তেনিশ্চিত হওয়া গেছে বলেও জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান।

এদিকে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় ১৬ এপিবিএন অধিনায়ক পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ডাকাত দলের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।