কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প স্থগিতের নির্দেশনা পায়নি অর্থ মন্ত্রণালয়

বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভ স্থিতিশীল রাখতে অর্থমন্ত্রী আমদানিনির্ভর কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পায়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিরাপদ রাখতে সরকার এখনো কম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন স্থগিত কিংবা পিছিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার এই পরিকল্পনা ঘোষণার এক মাসের বেশি সময় পরেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা উচ্চপদস্থদের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা পায়নি বলে জানা গেছে। ফলে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আগামী অর্থবছর শুরু হতে আর বাকি মাত্র ১২দিন।

গত ১১ মে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করা প্রয়োজন এবং যেসব প্রকল্প এখনই বাস্তবায়ন না করলে দেশের অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, সেগুলো আমরা ছয় মাস কিংবা আরও পরে বাস্তবায়ন করব।’

মুস্তফা কামাল বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল ও কঠিন হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ওপরও। যতদিন বহিঃখাতের এসব প্রভাব পুরোপুরি দূর না হবে, ততদিন বাংলাদেশকেও এ ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাতিল করা হচ্ছে না, শুধু বাস্তবায়নের সময় পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমে যাওয়া এবং রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় মার্কিন ডলারের ঘাটতির মধ্যে, সরকার সব বিলাসী পণ্য আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় এলসি মার্জিন বাড়িয়েছে এবং অত্যন্ত প্রয়োজন না হলে সরকারি কর্মচারীদের বিদেশ সফরও বন্ধ করেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বিভিন্ন বিলাসী গাড়ির সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় নিরুৎসাহিত করতে কম্পিউটার প্রিন্টার, ল্যাপটপ, সোলার প্যানেল, ক্যাশ রেজিস্ট্রার, পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র, কফি, পনির ইত্যাদি আমদানির ওপরও কর বাড়ানো হয়েছে।  

অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পরে মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে কি-না বা যেসব প্রকল্প পরে বাস্তবায়ন হবে সেগুলোর সম্ভাব্য তালিকা তৈরি হচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তাহমিদ হাসনাত খান গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, কম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি।

তিনি আরও বলেন, কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য কম তহবিল বরাদ্দ করে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। কিন্তু, এ বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত উচ্চপদস্থদের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি।

বিশ্বব্যাপী কভিড মহামারী পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিলাসী পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য আমদানিতে অধিক ব্যয়ের কারণে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত বছরের আগস্টে ৪ হাজার ৮শ কোটি ডলার থেকে চলতি মাসে ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।