স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত পুরো সিলেট বিভাগ। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা সুনামগঞ্জ আর সিলেটের। আকস্মিক এই বন্যায় জেলা দুটির বানভাসি মানুষের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে সেখানে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদেরও। অনেকে এখনো আটকে আছেন বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে। অনেকে শহরে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে উঠেছেন গাদাগাদি করে। আবার অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ছেড়েছেন সিলেট-সুনামগঞ্জ। দেশ রূপান্তরের রূপগঞ্জ প্রতিনিধিও গত ১৫ জুন বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন সুনামগঞ্জ। গতকাল শনিবার ঢাকায় ফিরে জানিয়েছেন তার অভিজ্ঞতা।
আতাউর রহমান সানী বলেন, ‘১৬ জুন আমরা তাহিরপুর পৌঁছে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে চলে যাই। এরপর টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্ধুদের নিয়ে আশ্রয় নিই ট্রলারে। ১৭ জুন (শুক্রবার) ভোর থেকে শুরু হয় ঝড় ও টানা বৃষ্টি। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও ভয়াবহ। একদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে যায় পুরো উপজেলা। গত ৪ দিন ধরে তাহিরপুর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে কোনো বিদ্যুৎ নেই। এছাড়া মোবাইল টাওয়ারগুলো থেকে পুরো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহিরপুর।’
তিনি জানান, বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার কারণে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন টাঙ্গুয়ার হাওরে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। আটকা পড়েন সেখানে বেড়াতে যাওয়া দুই শতাধিক পর্যটক। পর্যটকরা আটকা পড়ে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এক পর্যটক তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রায়হান কবিরকে সাহায্যের জন্য ফোন করলেও তারা কোনো ধরনের সাহায্য পাননি। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তাহিরপুর থেকে সুনামগঞ্জ আসা-যাওয়ার সব রাস্তা তলিয়ে যায়। পানির স্রোত বেশি হওয়ার কারণে বিশ্বম্ভরপুর, দুর্গাপুর, আনোয়ারপুরসহ বেশিরভাগ রাস্তাঘাট ভেঙে যায়। এ কারণে সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুরের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে পর্যটকরা সুনামগঞ্জ হয়ে ফিরতে পারছিলেন না। পরে পর্যটকদের একটি দল ট্রলার নিয়ে মধ্যনগর উপজেলা দিয়ে কান্দারপাড় নামে একটি ব্রিজ এলাকায় যান। সেখান থেকে সনুই নদীর তীর দিয়ে হাঁটুপানি ভেঙে প্রায় ৪ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গিয়ে স্থলভাগের দেখা পান। পরে ইজিবাইক ও ভটভটি, সিএনজি দিয়ে তারা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ গিয়ে ট্রেন ও বাসে করে তারা ঢাকায় ফেরেন।
রাশেদ, জন, সাইদুর নামে কয়েকজন পর্যটক জানান, তারা বহুকষ্টে ঢাকায় ফেরেন। টেকেরঘাটে তাদের ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে। এসময় হাওরের কিনারে ভেড়ানো তাদের ট্রলারের নোঙ্গর ঝড়ের বেগে ছিঁড়ে যায়। এসময় ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে তাদের ট্রলারের ওপরে পড়ে। এসময় দুজন ট্রলারের বাকি সদস্যদের বাঁচাতে লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে লাফিয়ে পড়েন। পরে কিনারে পৌঁছে অন্য একটি ছোট ট্রলার নিয়ে এসে ট্রলারের বাকি ৪ সদস্যকে উদ্ধার করেন। তারা সাহায্যের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও তাহিরপুর থানায় যোগাযোগ করলেও কোনো ধরনের সাহায্য পাননি।