ভৈরবে নদী ভাঙন, রাইস মিলের দুই শ্রমিক নিখোঁজ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার নদীবন্দর এলাকায় একটি রাইস মিলের শ্রমিকদের থাকার বসতঘর মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে শরীফ ও মোস্তাক নামের দুই শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন জানায়, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও নেত্রকোণার ভয়াবহ বন্যার কারণে কয়েকদিন ধরে মেঘনা বেশ উত্তাল। বাড়ছে পানি। প্লাবিত হচ্ছে নদী তীরবর্তী নিম্বাঞ্চল। আজ রবিবার সকাল ৮টার দিকে ভৈরব বাজার নদীবন্দর সংলগ্ন রাইস মিলটির দক্ষিণ-পূর্বকোণে ভাঙন দেখা দিলে শ্রমিকরা তাদের ঘরের মালামাল সরানোর কাজ করছিলেন। ওই সময় হঠাৎ একটি ঘর ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে গেলে শরীফ ও মোস্তাক নিখোঁজ হন।

রাইস মিলের শ্রমিক সর্দার নূরুল আমিন সর্দার ও নিখোঁজ মোস্তাকের ভাই মোজাম্মেল অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগে বিআইডাব্লিউটিএর কর্তৃপক্ষ রাইস মিল সংলগ্ন এলাকায় পলি অপসারণের কাজ করেন। ওই সময় তারা রাইস মিলটি লাগুয়া স্থানে খনন কাজ না করার অনুরোধ করলেও, শুনেননি কর্তৃপক্ষ। তার দাবি, এই খননের কারণেই আজকের ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

ভৈরব বাজার নদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আজিজুল হক রাজন জানান, সকাল পৌনে ৯টার দিকে তারা এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। বর্তমানে তারা তাদের মতো করে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ। এ সময় তিনি ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনসহ উদ্ধার কাজের খোঁজ-খবর নেন। পরে তিনি গণমাধ্যকর্মীদের জানান, উজানের পানি ভৈরবের মেঘনা দিয়ে যেহেতু নামে, তাই ক’দিন ধরেই মেঘনা উত্তাল। সকালে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর মিল কর্তৃপক্ষের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিলো। তবে বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে জানানো হয়েছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন পাশে আছে।

বিআইডাব্লিউটিএর খনন সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ইউএনও জানান, খনন নয়, নদী তীরবর্তী ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছিলো। তারা কাজ শুরুর আগে আমাকে এই বিষয়ে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন।