বন্যায় সুনামগঞ্জ, সিলেট ও নেত্রকোনায় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎসংযোগ ব্যাহত হওয়ায় এ অঞ্চলগুলোর মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো পুনরায় সচল করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এ তিন জেলার ৪৫ শতাংশ সাইট (বিটিএস) অচল হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা দিতে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কমিশনের চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের তত্ত্বাবধানে এই মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। ওই সেল বন্যাদুর্গত এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্ক, অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ও ব্যান্ডউইথ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সরেজমিনে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনের পর বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে সুনামগঞ্জ, সিলেট ও নেত্রকোনায় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং পানির অবাধ প্রবাহের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো পুনরায় সচলের কাজটি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন অপারেটর, আইএসপি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সচল ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জেনারেটর, অপটিক্যাল ফাইবার ও পর্যাপ্ত জ¦ালানি তেলের জোগান দেওয়ার ব্যবস্থা চলমান আছে।
গত ১৭ জুন থেকে ভারী বর্ষণ ও অতিবৃষ্টির ফলে সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা এই তিন জেলা বন্যা প্লাবিত হয় এবং ওই জেলাগুলোর অধিবাসীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। ওই সব এলাকায় চারটি মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের মোট ২ হাজার ৫২৮ সাইট (বিটিএস) রয়েছে। বন্যা প্লাবিত এলাকায় অবস্থিত ১ হাজার ১৫৯টি বিটিএস বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই সাইটভুক্ত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। মোবাইল অপারেটরদের প্রচেষ্টায় ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ১৮ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১৫৭টি সাইট পুনরায় সচল করা হয় এবং অবশিষ্ট সাইটগুলো সচল করার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার বেশিরভাগ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ওই সব স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে। ফলে সেসব এলাকায় জেনারেটর দিয়ে নেটওয়ার্ক চালু রাখার চেষ্টা করছে মোবাইল সেবাদাতারা। তবে সড়ক যোগাযোগের পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ায় সাইটগুলোতে জেনারেটর পৌঁছানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সাইটগুলোতে জেনারেটরের তেল পৌঁছানোও দুষ্কর হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সহযোগিতায় মোবাইল অপারেটররা টেলিযোগাযোগব্যবস্থা চালু রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এমটব জানিয়েছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার প্রায় ৪৫ শতাংশ সাইট এখনো ডাউন। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে গ্রাহকেরা অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলেও চার্জ দিতে পারছেন না।
বর্তমানে বন্যাদুর্গত এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কার্যক্রমকে সহজতর করার লক্ষ্যে বিটিআরসির উদ্যোগে টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে, যেসব নম্বরে কথা বলতে গ্রাহকদের কোনো অর্থ খরচ করতে হবে না।
টোল ফ্রি নম্বরগুলো হলো বিভাগীয় বন্যা মনিটরিং সেল : ০১৯৮৭৭৮১১৪৪, ০১৭৬৯১৭৭২৬৬, ০১৮৫২৭৮৮০০০, ০১৫১৩৯১৮০৯৬;
সিলেট জেলা : ০১৯৯৫৭৮১১৪৪, ০১৭৬৯১৭৭২৬৮, ০১৮৫২৮০৪৪৭৭, ০১৫১৩৯১৮০৯৮;
সুনামগঞ্জ জেলা : ০১৯৯৩৭৮১১৪৪, ০১৭৬৯১৭৭২৬৭, ০১৮৫২৭৯৮৮০০, ০১৫১৩৯১৮০৯৭।