তিন কিলোমিটার দূর থেকে আনতে হয় খাবার পানি

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ব্রহ্মপুত্র আর ধরলার কূল উপচে প্লাবিত হয়েছে প্রায় পুরো কুড়িগ্রাম জেলা। বিশেষ করে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ওইসব এলাকার বানভাসি মানুষ পড়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকটে। কিছু এলাকায় নৌকায় বা মাচায় রান্নার কাজটা কোনোমতে করতে পারলেও সুপেয় পানি মিলছে না সহজে। কোনো কোনো এলাকায় তীব্র স্রোত ঠেলে ৩-৪ কিলোমিটার দূর থেকে আনতে হয় পানি।

গতকাল রবিবার জেলার সদর উপজেলার চরাঞ্চলে দেখা গেছে বাড়তে থাকা পানির সঙ্গে রীতিমতো লড়াই করছে সেখানকার বাসিন্দারা। চরাঞ্চল হওয়ায় স্থলের চেয়ে সেখানে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে বন্যা। তীব্র স্রোতে ভেঙেছে রাস্তাঘাটসহ নানা অবকাঠামো। মানুষ নৌকায় বা বাঁশের মাচা তৈরি করে আশ্রয় নিয়েছে তাতে। ছোট্ট জায়গার মধ্যেই রান্না-থাকার কাজ চলছে। গতকাল উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ারচরে দেখা যায় বানভাসিদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

পোড়ারচর এলাকার মরিয়ম বেগম বলেন, ‘বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় গত চার-পাঁচ দিন ধরে আমার পরিবারের ছয়-সাত সদস্য সবাই নৌকায় বসবাস করছি। পাশাপাশি কষ্ট করে নৌকায় করছি রান্না। কিন্তু খাবার পানির খুবই সংকট আমাদের।’

ওই গ্রামের হযরত আলী নামে একজন বলেন, ‘রান্না করার খুব সমস্যা তাই ঠিকমতো খেতে পারছি না। খাবার পানি আনতে ৩ কিলোমিটার দূরের অন্য চরে যেতে হয়। আমাদের গ্রামের সব টিউবয়েল ডুবে গেছে। কিন্তু আমাদের পানি শোধনের কোনো বড়ি বা ফিটকিরি সরবরাহ করা হয়নি।’

গতকাল বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধরলার পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ২৬ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ধরলার পানি বিপদসীমার ওপর কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় থাকলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।