সুনামগঞ্জের বন্যা উপদ্রুত বিভিন্ন এলাকায় তীব্র খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো মিলছে না পর্যাপ্ত ত্রাণ। ফলে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে ওই এলাকার বানভাসি মানুষের। ক্ষুধার্ত মানুষ রাস্তায় ট্রাক-পিকআপ এবং নদীতে কোনো নৌযান দেখলেই ভিড় জমাচ্ছে; আশা যদি ত্রাণ বা সহায়তা মেলে।গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে সিলেট থেকে ট্রাকে করে সুনামগঞ্জ যাওয়ার পথে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কের পাশের শান্তিগঞ্জ ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষজন গাড়ি দেখলেই খাবারের আশায় ভিড় জমাচ্ছে। চিৎকার করে খাবার চাচ্ছে।
গতকাল দিরাই উপজেলায় দেখা যায়, জনপ্রিয় ব্যান্ড কুঁড়েঘরের শিল্পী তাসরিফ খান এবং তার স্বেচ্ছাসেবক দল ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ত্রাণ নিয়ে গেছেন। তাদের গন্তব্য অন্য কোথাও থাকলেও জয়কলস ইউনিয়নের নয়াহাটি এলাকায় গেলে গ্রামের মানুষ নৌকা ও ভেলা নিয়ে ঘিরে ধরে তাদের। আকুতি জানায় খাদ্য সহায়তার। অগত্যা তাসরিফরা নৌকা থামিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন।
এ সময় নয়াহাটি গ্রামের কৃষক আবদুন নূর দেশ রূপান্তরকে জানান, মে মাসের বন্যায় তিনি মাঠের ফসল হারান আর এবারের ভয়াবহ বন্যায় নিজের বসতবাড়ির ধান-চাল নষ্ট হয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাকে। সোমবার থেকে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে শুধু বৃষ্টির পানি ও সামান্য কিছু চিড়া খেয়ে বেঁচে আছেন।
এ সময় একই গ্রামের সাদ আলী জানান, বন্যার মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির শিকার তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা কেউ খবর নিতে আসেননি। তাই নিরুপায় হয়ে তারা খাবারের জন্য নৌকা দেখলেই ছুটছেন।
একই ইউনিয়নের গাগলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশ্রয়গ্রহণকারীরা গাদাগাদি করে থাকছে। বারান্দায়ও আছে বেশ কয়েকটি পরিবার। বেঞ্চ-টেবিল একত্র করে কিংবা মেঝেতে শুধু বিছানা-চাদর ও পুরনো পত্রিকা বিছিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। অতিরিক্ত গাদাগাদি হওয়ায় অনেকে পালা করে ঘুমাচ্ছে।
সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যার পাঁচ দিন কেটে গেছে। ঘরবাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অনেক রাস্তাঘাট থেকে পানি নেমে গেছে। গত কয়েক দিন যেখানে নৌকার অভাবে কেউ যেতে পারেনি, এখন সড়ক যোগাযোগের কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সেখানে যাওয়া যাচ্ছে বলে জানান উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট সাকিব। তিনি জানান, পানি কমতে থাকায় রিলিফ ও মেডিকেল সেবা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বেসরকারি উদ্যোগে যারা সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ত্রাণ বিতরণের কাজ করছে তাদের নৌকা ঠিক করে দেওয়া, ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।