আঙুলের ছাপ দিতে লাগে ১৫শ থেকে ৪ হাজার টাকা

অতিরিক্ত টাকা ছাড়া জয়পুরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সেবা মিলছে না। দালাল অথবা অফিসের অসাধু কর্মকতা-কর্মচারীরা আঙুলের ছাপ নিতে নানা কৌশল করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি নিচ্ছে ১৫শ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের ভাষ্য, ‘আবেদনপত্র ভুল’ আছে। অপরদিকে, অনিয়মের সবকিছু জেনেও এসব আমলে নিচ্ছেন না জয়পুরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক।

সরেজমিনে জানা যায়, গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জয়পুরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। কিন্তু এখানে সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা দালালদের মাধ্যমে অথবা পাসপোর্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নানা কৌশলে বাড়তি টাকায় পাসপোর্ট করাসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বাড়তি টাকা দিতেই হবেএ ব্যাপারটা এখন এ অফিসের ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে ‘আবেদনে ভুল আছে’র ভোগান্তি পিছু ছাড়ে না সেবাপ্রত্যাশীর।

কালাইয়ের জাহিদ হাসান, ক্ষেতলালের আলআমিন ও উজ্জ্বল, জামালগঞ্জের কামরুজ্জামান, সদরের গোয়াবাড়ি ঘাটের নোমান হোসেন, দোগাছীর রবিউল ইসলাম ও তাদের সঙ্গে পাসপোর্ট করতে আসা পরিবারের সদস্যরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও পাসপোর্ট অফিসে আঙুলের ছাপ দিতে এসে অতিরিক্ত টাকা দিয়েছি। ‘অনেক ভুলভ্রান্তি আছে’ বলে ১৫শ থেকে চার হাজার পর্যন্ত বাড়তি টাকা নিয়ে আঙুলের ছাপ নিয়েছে।

পাঁচবিবির শফিকুল ইসলাম বলেন, পাসপোর্ট করতে এলে ভুল বের করে সরকারি ফি-এর চেয়ে আরও চার হাজার টাকা অতিরিক্ত চায়। দিতে না চাইলে ‘পাসপোর্ট হবে না,’ ‘ফাইল আটকে যাবে’সহ বিভিন্ন রকম কথা বলে। পরে আমাদের এলাকার এমপির স্ত্রীকে দিয়ে ফোন দিয়ে তিনি কথা বলার পর ফাইল জমা দিতে সক্ষম হই।

জয়পুরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খানের কাছে এসব অভিযোগের বক্তব্য নিতে তার অফিসে গেলে তিনি হেসে বলেন, ‘এসব রেকর্ড করতে হবে না, আপনারা এমন করলে আমরা কেমনে কাজ করব!’ তিনি হাত দিয়ে ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লোক আপনাদের সাথে কথা বলতেছে, এগুলো করা লাগবে না!’  এরপরে তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।