নারী ও শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্তা তারার বলেন, এই ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি সমাজ ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা। পাঞ্জাবে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। যার কারণে সরকার যৌন হয়রানি, আইনের অপব্যবহার এবং জবরদস্তিমূলক মামলা মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থার বিবেচনা করছে।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ মামলা মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা জারি করছে প্রশাসন। এ বিষয়ে সুশীল সমাজ, নারী অধিকার সংগঠন, শিক্ষক ও আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। এর পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার গুরুত্ব শেখানোর আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি মামলার আসামিদের আটক করা হয়েছে। সরকার ধর্ষণবিরোধী অভিযান শুরু করেছে এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলেও হয়রানি সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে। বাবা-মায়েদের তাদের সন্তানদের কীভাবে রক্ষা করতে হয় তা শেখার সময় এসেছে। তিনি আরও বলেন, সরকার দ্রুত ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়াবে।
গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ সূচক-২০২১-এর তথ্য বলছে, নারী নির্যাতনের ঘটনায় ১৫৬টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩। এর পরে রয়েছে ইরাক, ইয়েমেন ও আফগানিস্তান। ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর রাইটস অ্যান্ড সিকিউরিটি (আইএফএফআরএএস) প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে গত চার বছরে ১৪ হাজার ৪৫৬টি ধর্ষণের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। যেখানে পাঞ্জাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি।