স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনে গতকাল শনিবার বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে ওঠে দেশ। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, বাদ্য-বাজনা নিয়ে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টের আয়োজন করে। রঙবেরঙের বেলুন ও আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে সরকারি ভবন, হোটেল-মোটেল, প্রেস ক্লাব, কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কমোড় এবং ফোয়ারাগুলো। সন্ধ্যার আকাশ বর্ণিল হয়ে ওঠে লেজার শো এবং রঙিন আতশবাজির বিচ্ছুরণে। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতার সরাসরিসহ সম্প্রচার করে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা, পত্রিকাগুলো প্রকাশ করে বিশেষ ক্রোড়পত্র। ব্যুরো, ঢাকার বাইরের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
চট্টগ্রাম : সকাল থেকেই নগরীর বহদ্দারহাট মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, আন্দরকিল্লা মোড়, জামালখান মোড়, নিউ মার্কেট মোড়, আগ্রাবাদ মোড়, পুরনো রেলস্টেশন ও বড়পুল মোড়ে মেগা স্কিনে মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর দীর্ঘ, কাক্সিক্ষত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি প্রচার করা হয়। কড়া রৌদ্রতাপ উপেক্ষা করে অসংখ্য মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে দেশের গর্বের পদ্মা সেতুর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ শুনতে দেখা যায়।
খুলনা : সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পদ্মা সেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠানমালা খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে খুলনায় নানা রঙের বেলুন উড়িয়ে মুহূর্তটি উদযাপন করা হয়।
খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানস্থলে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান ভূঞা, রেঞ্জ ডিআইজি ড. খ. মহিদ উদ্দিন, কেডিএ’র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী : সকাল থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস, ট্রাক, ট্রেনসহ নানা যানে শত শত মানুষ জড়ো হয় নগরীর শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরে। পরে সেখান থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়ামে গিয়ে শোভাযাত্রাটি শেষ হয়। স্টেডিয়ামে বড় পর্দায় সেতুর উদ্বোধন দেখার পাশাপাশি দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেয় হাজারো মানুষ।
বরিশাল : পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বরিশাল নগরীতে পৃথক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়। জেলা পুলিশ লাইনস প্রাঙ্গণ থেকে বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন করেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান। বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন বিশ^বিদ্যালয়ের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।
ময়মনসিংহ : বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন ভুইয়া স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি উপভোগ করেন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উদ্বোধন শেষে বেলুন, পায়রা উড়িয়ে জেলা পর্যায়েও পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়।
ঝিনাইদহ : সকালে শহরের প্রেরণা একাত্তর চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরসহ সামাজিক সংগঠন অংশ নেয়। পরে পুরাতন ডিসি মুক্তমঞ্চে আলোচনায় বক্তৃতা করেন স্থানীয় সাংসদ আবদুল হাই, জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম, পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম প্রমুখ।
জয়পুরহাট : শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দান থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সার্কিট হাউজ মাঠে এসে আলোচনা সভা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক শরিফুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান রকেট, পুুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞাসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা।
মাগুরা : সকালে শহরের নোমানী ময়দানে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বড় পর্দায় দেখানো হয়। এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক পঙ্কজ কুন্ডু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ফাত্তাহ প্রমুখ।
সাতক্ষীরা : কালীগঞ্জের সুশীলন মিলনায়তনে শত শত নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সাহিত্যিক অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সুশীলনের অতিরিক্ত পরিচালক মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টু, সুকুমার দাশ বাচ্চু প্রমুখ।
ঠাকুরগাঁও : দুপুর সাড়ে ১২টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
পঞ্চগড় : সকালে কালেক্টরেট চত্বর থেকে কয়েক হাজার মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ প্রশাসক আনোয়ার সাদাত সম্রাট, উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, পৌর মেয়র জাকিয়া খাতুন প্রমুখ শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
নারায়ণগঞ্জ : একেএম শামছুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে আনন্দ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর বীরপ্রতীক। অনুষ্ঠানে সাংসদ শামীম ওসমান, সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা পরিষদের প্রশাসক আনোয়ার হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জয়েদুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাট : সাত দিনব্যাপী আনন্দ মেলা, শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া : জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু প্রমুখ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। সন্ধ্যায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আনন্দ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।
গোপালগঞ্জ : জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকাসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এবং সাধারণ মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। গোপালগঞ্জে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
যশোর : উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার প্রত্যক্ষ করেন যশোরবাসী। পরে কবুতর ওড়ানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক তজিমুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা আহমেদ চৌধুরী ফরিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।
সিরাজগঞ্জ : শোভাযাত্রার আগে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কেএম হোসেন আলী হাসান, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদার, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ড. জান্নাত আরা হেনরী প্রমুখ।