তামাবিল-চাতলাপুর সড়ক ব্যবহারে দিল্লির প্রস্তাবে ঢাকার সায়

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেঘালয় থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের সড়ক (ভূখ-) ব্যবহার করতে চায় ভারত। এ জন্য দিল্লির দেওয়া প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে সায় দিয়েছে ঢাকা। আরও কিছু বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতে সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যা, বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের কারণে আসাম থেকে ত্রিপুরা ও মণিপুর রাজ্যে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় মেঘালয় থেকে ত্রিপুরায় জ¦ালানি সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতীয় হাইকমিশন সম্প্রতি সিলেটের তামাবিল এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চাতলাপুর সড়কের একটি অংশ ব্যবহার করে পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্ট (পিওএল) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করার অনুমতি চেয়েছে।

দেশ রূপান্তরের হাতে আসা এ সংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহার করে ভারত প্রতিদিন ৪১৬ কিলোলিটার বিএস ভিআই পেট্রোল, ৭৬৮ কিলোলিটার হাই-স্পিড ডিজেল (এইচএসডি) এবং ২০০ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করতে চায়।

আবেদন পাওয়ার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে ভারতকে জ্বালানি পরিবহনের অনুমতি দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে ভারত প্রতিদিন যে পরিমাণ জ্বালানি তেল এবং গ্যাস পরিবহন করবে তাতে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে কি-না সে বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছ থেকে মতামত নেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহারের সময় ভারতীয় যানবাহনের জ্বালানির প্রয়োজন হলে যেসব রিফুয়েলিং স্টেশন (ফিলিং স্টেশন) ব্যবহার করতে পারবে তার তালিকা চেয়েছে মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রেজ্বালানির মূল্য নির্ধারণের জন্যও বিইআরসির কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে।

ভারতীয় যানবাহনে বহনকৃত পণ্যের শুল্ক গ্যারান্টি ও ঝুঁকি গ্যারান্টি নিয়ে আলোচনা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভারতীয় হাইকমিশন মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, পরিবহনকৃত পণ্যের জন্য ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত বাজাজ আলিয়াঞ্জ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে বীমা সুবিধা পাওয়া যাবে। ওই দেশের বীমা কোম্পানির শুল্ক ও ঝুঁকি গ্যারান্টি বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য কি-না এবং কোনো নিয়ম ভাঙলে কীভাবে বীমা সুবিধা আদায় করা হবে এসব বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

নথি থেকে জানা যায় ভারতীয় হাইকমিশনের আবেদনে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহনগুলোতে প্রকৃত অবস্থান নির্ণয় (ট্র্যাকিং) করার জিপিএস-জিএসএম মডিউলভিত্তিক যানবাহন ট্র্যাকিং সিস্টেম লাগানো আছে বলে উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশে আগত যানবাহন ট্র্যাকিং করা সম্ভব কি-না অথবা ট্র্যাকিং করার প্রযুক্তি সক্ষমতা আছে কি-না সে বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) থেকেও মতামত নেওয়া হবে। কারণ, নেটওয়ার্ক সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশে ট্র্যাক করা সম্ভব নাও হতে পারে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পরিবহনকৃত পণ্য ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভারতীয় যানবাহন ট্র্যাক করার প্রয়োজন হতে পারে এমন আলোচনা হয়েছে। যদি কোনো যানবাহন নষ্ট হয়ে যায় বা ইচ্ছাকৃতভাবে থামিয়ে রাখে তাহলেও ট্র্যাকিংয়ের প্রয়োজন হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মতামত নেওয়ার পর বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।

প্রতিবেশী ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের সড়ক এবং নৌপথ ব্যবহার করে। ২০১০ সালের নভেম্বরে এই বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশ দুটি। ভারত তাদের পণ্য বহনের জন্য বাংলাদেশের নৌপথ ব্যবহার করতে পারে সে জন্য একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে ২০১৫ সালে। এছাড়া এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশি বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ভারতকে।