ব্রেইন স্ট্রোক কী?
ব্রেইন স্ট্রোক মস্তিষ্কের রক্তনালির মধ্যকার রক্ত চলাচলের ব্যাঘাতজনিত রোগ। ব্রেইন স্ট্রোকের ফলে মানুষ তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে অক্ষম হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে যদি সঠিক চিকিৎসা না পায়। ভুল চিকিৎসার কারণে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী শারীরিক, মানসিক ও কর্মক্ষেত্রে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে।
নারী ও পুরুষ যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। সাধারণত স্ট্রোক তিন প্রকারÑ ব্রেইন স্ট্রোক, হিট স্ট্রোক, কোল্ড স্ট্রোক। ব্রেইন স্ট্রোক আবার তিন প্রকারÑ টিআইএ বা ট্রানসিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক, ইসকেমিক স্ট্রোকওহেমোরেজিক স্ট্রোক।
ব্রেইন স্ট্রোকের কারণসমূহ : ব্রেইন স্ট্রোকের মূল কারণ মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটা। এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। মস্তিষ্কের রক্তনালিতে প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ রক্ত প্রবাহিত হয় তাতে কোনো কারণে তারতম্য ঘটলে। মস্তিষ্কের রক্তনালিতে কোনো কিছু জমাট বাঁধলে, যার ফলে রক্তের নালিকা বন্ধ হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের আক্রান্ত অংশের স্মায়ুকোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটলে, উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম কারণ যেখানে ছোট ছোট রক্তনালিরক্তের অতিরিক্ত চাপের কারণে ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হয়, ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে চাপ বেড়ে যায় এবং অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের স্মায়ুকোষগুলো মারা যায়। মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলো অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের কারণে চেপে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
স্ট্রোকের পরবর্তী ফিজিওথেরাপি
রোগীর রোগ বর্ণনা, ফিজিক্যাল টেস্ট, ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেস্ট, বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল টেস্ট এবং প্যাথলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে কী ধরনের স্ট্রোক হয়েছে এবং শারীরিক সমস্যাসমূহ নির্ণয় করে থাকেন একজন ফিজিওথেরাপিস্ট। রোগীর সমস্যানুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা করে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দেন।
স্ট্রোকের প্রাথমিক অবস্থায় ফিজিওথেরাপি
মেকানিকাল ট্রিটমেন্ট : আইআরআর প্যারাফিন ওয়াক্স প্যাক ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
ম্যানুয়াল ট্রিটমেন্ট : ব্রিদিং টেকনিকের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিককরণ। সঠিক পজিশনিং-এর মাধ্যমে বেড শোর প্রিভেন্ট করা। স্ট্রেচিং এবং স্ট্রেন্থদেনিং এবং হোল্ড-রিলাক্স টেকনিকের মাধ্যমে মাংসপেশির স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য বজায় রাখা। বেড মোবিলিটি টেকনিকের মাধ্যমে রোগীকে বেডে শোয়া থেকে বসা ও দাঁড়ানোর প্র্যাকটিস করানো। ব্রিজিং প্র্যাকটিসের মাধ্যমে রোগীর কোমরের শক্তি বাড়ানো। শরীরের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট ফিরিয়ে আনা। প্যাসিভ মুভমেন্টের মাধ্যমে মাংসপেশির স্বাভাবিক টান ফিরিয়ে আনা ও শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের স্বাভাবিক নাড়ানোর ক্ষমতা বা মুভমেন্ট ফিরিয়ে আনা। ব্যালেন্স ও কো-অরডিনেশন টেকনিকের মাধ্যমে এগুলো উন্নত করা। স্বাভাবিক হাঁটার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা গেইট রিএডুকেশনের মাধ্যমে। রোগীর কর্মদক্ষতা বাড়ানো। রোগীর মানসিক অবস্থা উন্নত করা। মেডিসিন থেরাপি : রোগীর ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস, টেনশন, কোলেস্টেরলের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করা। অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান বজায় রাখা এবং অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকা।
মেনডেটরি অ্যাসিসটিভ ডিভাইস : রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হুইল চেয়ার, ক্র্যাচ, ফ্রেম বা স্টিক দেওয়া স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন্য।
মেনডেটরি অ্যাডভাইস : ব্রেইন স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতন হওয়া। অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাওয়া থেকে বিরত থাকা। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা। নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম নেওয়া। তেল, চর্বি, ভাজাপোড়া, দই, মিষ্টি, ছানা খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা।