কয়েক দফায় বাড়ানোর পরে দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমালেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল রবিবার বিকেলে রিফাইনারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম মোল্লা সয়াবিন তেলের দাম কমানোর কথা জানান। তিনি জানান, খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের সয়াবিন তেলের কমানো দাম আজ সোমবার থেকে কার্যকর হবে। গতকাল সকালেই বাণিজ্য সচিব দু-এক দিনের মধ্যে সয়াবিনের দাম কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
গতকাল নুরুল ইসলাম মোল্লা জানান, আজ সোমবার থেকে সয়াবিন তেলের ১ লিটারের বোতল বিক্রি হবে ১৯৯ টাকায়। গতকাল রবিবার পর্যন্ত দাম ছিল ২০৫ টাকা। ৫ লিটারের বোতল বিক্রি হবে ৯৮০ টাকায়। গতকাল পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৯৯৭ টাকা। ৫ লিটারের বোতলে কমেছে ১৭ টাকা।
তিনি জানান, নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ১ লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৮০ টাকা। গতকাল পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ১৮৫ টাকায়।
এর আগে বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় সবশেষ চলতি বছরের ৯ জুন সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়। এর আগে ৬ মে এক দফা বেড়েছিল ভোজ্য তেলের দাম। সে সময় বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারে ৩৮, খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ৪৪ ও পাম তেলের লিটারে ৪২ টাকা দাম বাড়ে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমায় গতকাল রবিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দাম কমার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। তিনি বলেছিলেন, দু-এক দিনের মধ্যেই সয়াবিন তেলের দাম কমবে। বাণিজ্য সচিবের এমন ইঙ্গিতের পরই বিকেলে মিল মালিকরা সয়াবিন তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেন।
বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘তেলের দাম কমে আসার সম্ভাবনা আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। আমরাও কমানোর চিন্তা করছি। তবে দেশে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরো ইমপ্যাক্টটা আসবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামে কেনা তেল বাজারে আসা ডলারের দাম বাড়ার কারণে যে টাকা বাড়তি যাবে অ্যাডজাস্ট করে দাম নির্ধারণ করা হবে।
বাণিজ্যসচিব বলেন, তেলের দামের ক্ষেত্রে যেটা হয় সেটা হলো, সরকার বাড়ানোর আগেই বাজারে খুচরা পর্যায়ে দাম বেশি নেওয়া হয়। এটা পর্যবেক্ষণের জন্য ভোক্তা অধিকার ও প্রশাসন কাজ করে।
সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিলে বাজারে কমে না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, ভোক্তা এবং বিক্রেতাদের মধ্যে একটা দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক আছে। যিনি বিক্রেতা তিনি সব সময় বেশি দামে বিক্রি করতে চান। আর ভোক্তা কম দামে কিনতে চান। উদ্দেশ্য দ্বন্দ্বে (অবজেকটিভ কনফ্লিক্ট) আচরণ এমন হয়। এ জন্যই সরকার এখানে হস্তক্ষেপ করে। বাজার অর্থনীতিতে আমাদের কিন্তু হস্তক্ষেপ করার কথা না। তারপরও এসব কারণে করতে হয়।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের তথ্যমতে, তিন মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ২০০ থেকে ৪৯০ ডলার পর্যন্ত কমেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৯ সালে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের গড়মূল্য ছিল প্রতি টন ৭৬৫ ডলার। ২০২০ সালে ছিল ৮৩৮ ডলার এবং ২০২১ সালে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের টন দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৮৫ ডলার। কিন্তু চলতি বছরের মার্চে এসে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম হয় ১ হাজার ৯৫৬ ডলার। এপ্রিলে দাম কমে ১ হাজার ৯৪৭ ডলার হয়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৬৪ ডলারে।