বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ডোপ টেস্ট

সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করে শিগগিরই নতুন আইন করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রেও আইন সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন মন্ত্রী। একই দিন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অন্য একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যেকোনো মূল্যে দেশকে মাদকমুক্ত করা হবে। এজন্য আগে মাদকাসক্তদের শনাক্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচিবালয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছিলেন তার আগেই আমরা পুলিশের ডোপ টেস্ট শুরু করে দিয়েছিলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া একটি প্রস্তাবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের কথা বলেছিলাম। চাকরিতে যোগদান করার আগে সিভিল সার্জন যেসব পরীক্ষা করেন, সেখানে ডোপ টেস্ট করা হবে। সেটা করাও হচ্ছে। এটা ব্যাপকভাবে করতে অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। ইতিমধ্যে সেই প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণই নয়, যুব সমাজকে মাদকদ্রব্যের ছোবল থেকে রক্ষার কাজও করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো। গত ২০২০-২১ সালে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ মাদকসংশ্লিষ্ট ২০ হাজারেরও বেশি মামলা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারকে অনুরোধ করেছি, তারা কথা রাখেন না। ইয়াবা সাপ্লাই বন্ধ করতে বলেও কাজ হয়নি। তবে ভারত সরকার সীমান্তঘেঁষা ফেনসিডিল কারখানাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের অনেকেই মাদক কারবারে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা মিয়ানমার থেকে এখানে মাদক নিয়ে আসে। মিয়ানমার সীমান্তে ইতিমধ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মাদকের সঙ্গে যারাই জড়িত প্রশাসন বা রাজনীতিক সবাইকে আইনের মুখোমুখি করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্য অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজ ও মেধা টিকিয়ে রাখতে ডোপ টেস্ট চালুর কাজ চলছে। বিশ্বের উন্নত-অনুন্নত সব দেশই আজ এ সমস্যায় আক্রান্ত। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ভয়ংকর সব মাদক বাংলাদেশে ঢুকছে। ভারতের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। আমরা তাদের সবসময় অনুরোধ করছি। আমাদের অনুরোধে তারা ফেনসিডিল কারখানা সরিয়ে নিয়েছে। যে দুয়েকটি আছে তাও ধ্বংস করে দিচ্ছে। মিয়ানমার থেকে মাদক আসছে। এসব বন্ধ করতে আমরা ওই দেশের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেছি। তারা মাদক চোরাচালান বন্ধে অনেক কিছুই বলে, কিন্তু কিছুই করে না। আর এ কারণে সীমান্তে বিজিবিকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোস্টগার্ডকেও শক্তিশালী করছি। সীমান্ত এলাকায় সেন্সর বসানোর ব্যবস্থা করছি, যাতে কেউ এলে বা গেলে তাকে সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে পরিসংখ্যান রয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ৭.৫ থেকে ৮ মিলিয়ন মাদকাসক্ত রয়েছে। কারও কারও পরিসংখ্যানে আরও বেশি। মোট মাদকাসক্তের মধ্যে ৪৮ শতাংশ শিক্ষিত। মাদকাসক্তদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ আবার যৌন অপরাধী। জেলখানায় যত মানুষ আছে এর বেশিরভাগই মাদক পাচারকারী বা কারবারি। এটা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মাদকসেবীদের ৮০ শতাংশই যুবক। প্রধানমন্ত্রী ওই কারণেই মাদকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেন, মাদকের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে একত্রে লড়তে হবে। প্রতিটি পরিবারের মধ্যে সচেতনতা থাকা প্রয়োজন। সন্তান কী করে, সে মাদক সেবন করে কি না, ধূমপান করে কি না, এ বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। তবেই মাদকমুক্ত দেশ, সমাজ গড়া সম্ভব।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।