বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নাসিরনগরের ১০ ব্রিজ ও ৩৪৫ কি.মি. সড়ক

এবারের বন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় ব্রিজ-কালভার্ট ও সড়ক ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সূত্র জানায়, উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ১০টি ব্রিজ ও ৩৪৫ কি.মি সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও কয়েকটি ব্রিজ ঝুঁকিতে রয়েছে। বেড়িবাঁধ সহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সেতু ভেঙে পড়ছে।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যায় কোনো কোনো এলাকায় পুরো সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সীমাহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো গ্রামীণ রাস্তায় পানি উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি জেনেও চলাচল করছেন স্থানীয়রা, ফলে ঘটছে দুর্ঘটনাও।

বন্যার পানির তীব্র স্রোতে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের চাঁনপাড়ার গঙ্গা নগর সংযোগ সড়কের ব্রিজটি পূর্বদিক হেলে যায়। পরের দিন সকালে পুরো ব্রিজটি বন্যার পানিতে বিলীন হয়ে যায়।

এ ছাড়া, কিছু ব্রিজ বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে নাসিরনগর-বুড়িশ্বর সীমানায় মহাখালের ওপর ৭০ বছরের ব্রিজটি বন্যায় ক্ষতির মুখে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে লোকজন পারাপার হচ্ছে।

বন্যাকবলিত ১৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা-পাকা মিলে ৩৪৫ কি. মি. সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা। সড়কের অধিকাংশই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নাসিরনগর কার্যালয় জানায়, বন্যায় রাস্তা ও ব্রিজ-কালভার্টের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোয়ালনগর, চাতালপাড়, ভলাকুট ও কুন্ডা, ইউনিয়নে। নাসিরনগর উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে প্রায় ২৯৬ কিলোমিটার। পাকা সড়ক রয়েছে ১১২ কি.মি.। এর মধ্যে ইটের সলিং রাস্তা ১৮ কি.মি. আরসিসি ঢালাইয়ের রাস্তা ১৩ কি.মি.।

এলজিইডি নাসিরনগর কার্যালয় আরও জানায়, উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ-কালভার্টের মধ্যে রয়েছে ভলাকুট ইউনিয়নে দুটি, হরিপুরে দুটি, ফান্দাউকে একটি, গুনিয়াউকে দুটি, গোকর্ণে একটি, কুন্ডায় একটি ও বুড়িশ্বরে একটি।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, বন্যায় উপজেলার প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ব্রিজ ও কালভার্টের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তেও পারে।

এদিকে, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে শনিবার ভোর রাত থেকে নাসিরনগর-মাধবপুর আঞ্চলিক সড়কের হরিপুর ইউনিয়নের নরহা গ্রামের পাশে একটি বেইলি ব্রিজের সামনের অংশের মাটি সরে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দাতমন্ডল অংশের একটি সেতুর তিন দিকে মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া, উপজেলার কুন্ডা-গোকর্ণ সড়কের বেড়িবাঁধ এলাকার সেতু ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বেশ কিছু গ্রাম।