যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের ৩১টি উপজেলার টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য ১৭১ কোটি ৩২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ১ হাজার ৮০০ তরুণ ও নারী কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় ২০ শতাংশ কমানো। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২৮ হাজার ৬২০ জন কৃষকের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ব্যয় সাশ্রয়ী ও ফলপ্রদপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক করা হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষিকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের জন্য তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ‘যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জন করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, গত ৯ মার্চ এ প্রকল্পের বিষয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)।
সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্রযুক্তি সরবরাহ, বারিড পাইপ সেচ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, নিরাপদ উপায়ে চারা উৎপাদন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের ঝুঁকি হিসেবে যশোর অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পুষ্টিকর উচ্চমূল্যের শস্য উৎপাদন, কৃষিপণ্য বিপণনে অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাবনা ও সুযোগ কাজে লাগানো, শিক্ষিত নারী, তরুণ ও যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করে বাণিজ্যিক কৃষিব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে অবদান রাখার জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদাপূরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত সব পর্যায়ে কৃষককে লাভজনক করা আবশ্যক। এ উদ্দেশ্য অর্জনে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন, টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ, সংগ্রহ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষির মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। খোরপোশ কৃষিকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের জন্য ১ হাজার ৮০০ জন শিক্ষিত তরুণ ও নারী কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করা এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। ফসলের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনার জন্য কৃষকের দক্ষতা বাড়িয়ে ফসলের ক্ষতি ১৫ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবনায়।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৩৪ হাজার ৬৬২টি কৃষিপ্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এছাড়া ৬২টি কৃষি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণ, ৩১৮টি বিদ্যুৎবিহীন কুলিং চেম্বার, ৯৩টি কৃষিপ্রযুক্তি মেলা, ১২৪টি উদ্বুদ্বকরণ ভ্রমণ, ৩ হাজার ৪৬৬টি মাঠ দিবস আয়োজন, ২ হাজার ৬৯২ ব্যাচ অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ এবং ৩০ হাজার ৯৫৯টি কৃষি সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হবে।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যশোর অঞ্চলের ৩১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চলবে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত জেলাগুলো হচ্ছে যশোর জেলার যশোর সদর, শার্শা, মনিরামপুর, কেশবপুর, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, বাঘারপাড়া এবং অভয়নগর উপজেলা। মাগুরা জেলার মাগুরা সদর, শালিখা, শ্রীপুর ও মহম্মদপুর উপজেলা। ঝিনাইদহ জেলার ঝিনাইদহ সদর, মহেশপুর, হরিণাকু-ু, কোটচাঁদপুর, শৈলকুপা এবং কালীগঞ্জ উপজেলা। কুষ্টিয়া জেলার কুষ্টিয়া সদর, দৌলতপুর, ভেড়ামারা, মিরপুর, খোকসা ও কুমারখালী উপজেলা। চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা সদর, দামুড়হুদা, জীবননগর, আলমডাঙ্গা মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর এবং গাংনী উপজেলা।
প্রকল্পটি নেওয়ার আগে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তি এবং কার্যক্রম প্রতিপালন করে কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণের স্বার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।