নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি দৌলত হোসেন ওরফে দেওলত মেম্বারকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গত রবিবার রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ব্রিজের সামনে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে উদ্ধার করে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত দৌলত মেম্বার সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য ছিলেন। তিনি সদর উপজেলার গোগনগর ও সৈয়দপুর এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলা রয়েছে। গোগনগর ও সৈয়দপুর এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, সম্প্রতি এলাকার একাধিক সম্পত্তি নিয়ে দুপক্ষে মারামারি হয়। এ নিয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগও জমা পড়ে। একপক্ষে ছিলেন রবিন ও অপরপক্ষে ছিলেন লুৎফর রহমান। ওই সময় দুপক্ষের মারামারিতে আহত হয়ে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনায় রবিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন দৌলত মেম্বার ও তার লোকজন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে রবিবার রাতে গোগনগর ব্রিজের সামনে দৌলত মেম্বারের পথরোধ করে একদল সন্ত্রাসী। তারা দৌলত মেম্বারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গোগনগর এলাকার উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দৌলত মেম্বার হত্যায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।’
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১ মে রাতে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলার আসামি দৌলত মেম্বারকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সৈয়দপুর এলাকায় ব্লকরেইডের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার দুই ছেলে সন্ত্রাসী সম্রাট ও ফয়সাল পালিয়ে যায়।
সে সময় সদর মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, দৌলত মেম্বার চর সৈয়দপুর এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা, ৩টি চাঁদাবাজি, ২টি মাদক মামলাসহ আরও একাধিক মামলা রয়েছে। যেগুলো আদালতে বিচারাধীন।