শেখ হাসিনা হত্যা চেষ্টায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পিন্টু কারাগারে

পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে ট্রেনে গুলি করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জাকারিয়া পিন্টুকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গতকাল সোমবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয় থেকে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পিন্টুর সমর্থক নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে ভিড় করেন।

এর আগে গত শনিবার কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে জাকারিয়া পিন্টুকে (৫০) আটক করে র‌্যাব-২ সদস্যরা। পরদিন রবিবার রাতে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই রাতেই তাকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। পিন্টু পাবনার ঈশ্বরদীর পিয়ারখালী কাঁচাপরীপাড়া মহল্লার প্রয়াত আব্দুস ছামাদের ছেলে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ২০১৯ সালে ৩ জুলাই ঈশ্বরদী বিএনপির ৯ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে আদালত। রায় ঘোষণার দিন থেকেই পলাতক ছিলেন পিন্টু। এই মামলা ছাড়াও তিনি ভেড়ামারা থানায় অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মোট ২৪টি মামলা রয়েছে, এর মধ্যে ৮টি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি পিন্টু।

উল্লেখ্য, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে পথসভা করার কথা থাকলেও বিএনপি নেতা মো. জাকারিয়া পিন্টুসহ তার নেতৃত্বে মামলার অন্য আসামিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী স্টেশন এলাকায় ট্রেনে গুলি ও বোমাবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই একটি মামলা করেন। তিন বছর পর ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল মোট ৫২ জনের নামে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

মামলার ৫২ জন আসামির মধ্যে ২৮ জন এজলাসে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন। আসামিরা ঈশ্বরদী উপজেলার পৌর বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।