চোরাকারবারে জড়িয়ে পড়ছেন কেবিন ক্রুরা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুদের চোরাকারবারে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা বাড়ছে। এই নিয়ে বিব্রত বিমান ও মন্ত্রণালয়ের কর্র্মকর্তারা। এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। যেসব ক্রু চোরাকারবারে জড়িত ইতিমধ্যে তাদের একটি তালিকা করে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে।  

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (গ্রাহক সেবা) সিদ্দিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘চোরাকারবারে জড়ালেই কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে কেবিন ক্রুদের। এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিমান। অপরাধ রোধ করতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গত ১৩ জুন কেবিন ক্রু ফ্লোরা সোনা পাচার করেছেন বলে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। এই নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

সৌদি আরবের রিয়াদে প্রায় ৩ কোটি টাকার সোনার চালানসহ কেবিন ক্রু ফ্লোরা ধরা পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ফ্লোরা ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

জানা গেছে, রিয়াদে কেবিন ক্রু ফ্লোরার বিরুদ্বে সোনার চালানসহ ধরা পড়ার অভিযোগ বিষয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন বিমানের সদর দপ্তরে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে ফ্লোরার বিরুদ্বে ৩ কোটি টাকার সোনাসহ ধরা পড়ার সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

ফ্লোরাও দাবি করেছেন, রিয়াদে তার কাছে কোনো সোনা পাওয়া যায়নি। তার সামনে দাঁড়ানো অন্য এক নারী যাত্রীর কাছেই নিরাপত্তাকর্মীরা বেশ কিছু পরিমাণ সোনা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে। তার পাশে থাকায় তাকেও ওই দেশের পুলিশ জেরা করেছে দীর্ঘক্ষণ। যে কারণে তিনি ওই ফ্লাইটে ঢাকায় না ফিরলেও পরবর্তী ফ্লাইটেই দেশে ফিরেন।

এই বিষয়ে ফ্লোরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সৌদি আরবে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ৩ কোটি টাকার সোনা পাচার করা কী করে সম্ভব?  সোনা নিয়ে ধরা পড়লে তো আমার বিরুদ্বে মামলা দায়ের করত। গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠাত। তেমন কিছু ঘটেনি বলেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়ায় পরবর্তী ফ্লাইটেই ঢাকায় ফিরে আসি। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে দেশে ফেরা সম্ভব হতো না।’

বিমান সূত্র জানায়, সোনা চোরাচালান, মাদক পাচার ও মোবাইল সেট নিয়ে আসায় কয়েকজন ক্রুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তারা ফের জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপকর্মে। গত ৩১ মে ও ১ জুন অতিরিক্ত মোবাইল আনার দায়ে চার কেবিন ক্রুকে ৩ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস। ফ্লাইট স্টুয়ার্ট সাফান, ফ্লাইট স্টুয়ার্ট মেরিনা, এফএস সাহিল ও শাওলি পৃথক ফ্লাইটে বিপুল পরিমাণ আইফোন নিয়ে ধরা পড়েন। তাদের জরিমানা করা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বিমানের অন্যান্য ক্রুর অভিযোগ, বারবার একই ধরনের অপরাধ করেও কীভাবে তারা ওইসব রুটে দায়িত্ব পায় তা বড় রহস্য হয়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিমানের কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব বণ্টনের দায়িত্বে থাকা শাকিল চৌধুরীর কাছে অভিযোগ করার পরও তাদেরকে বারবার মধ্যপ্রাচ্যের চোরাচালান রুটগুলোতে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে একইভাবে চোরাচালান করতে গিয়ে ধরা পড়েন কয়েকজন ক্রু। তার মধ্যে রুহুল আমিন ও শুভকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হলেও চার মাসেও তদন্ত শেষ করতে পারেনি বিমান।

মাস ছয়েক আগে সেজাদ নামে এক ক্রু বিপুল পরিমাণ মুদ্রা পাচার করতে গিয়ে আটক হন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারপর বিমান তাকে কিছুদিন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখে এবং তদন্ত করে তিনটি ইনক্রিমেন্ট কেটে চাকরিতে বহাল করে।

নাম প্রকাশ না করে বিমানের এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিডিউলিং শাখার একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন চোরাচালানে জড়িত। ওই সিন্ডিকেটের সদস্য সংখ্যা অর্ধশতাধিক কেবিন ক্রু। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সোনা আনত বিমানের ফ্লাইট ব্যবহার করে। শিডিউলিং শাখার ওই সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের টাকা মাসোহারা নিয়ে চক্রের সদস্যদের এই রুটে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে দেয়।