স্ত্রী হত্যায় স্বামীসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী ও প্রথম স্ত্রীর ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- সাঘাটার কামালেরপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন বেপারীর ছেলে মো. ছাইফুল ইসলাম (৩৫) ও তার প্রথম স্ত্রীর ভাই বসন্তপাড়া গ্রামের মো. চাঁন মিয়ার ছেলে মো. আবদুল করিম (২১)।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদেরকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এই মামলায় অপর তিনজন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

একই মামলায় তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়। তারা হলেন- ছাইফুলের প্রথম স্ত্রী পারভীন আকতার (৩২), আবদুল কুদ্দুস (১৯) ও কোহিনুর বেগম (৪২)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালে সাঘাটা উপজেলার বড়াইকান্দি গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে পারভীন বেগমের (২৩) সঙ্গে কামালেরপাড়া গ্রামের ছাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। পারভীনের কোনো সন্তান নেই। বিয়ের পর থেকে ছাইফুলের সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীন বেগমের পারিবারিক কলহ চলতে থাকে।

২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে ছাইফুল একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন। তিনি কারাগারে থাকাকালীন সময় দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীন তার বাবার বাড়িতে চলে যান।

কয়েক মাস পর ছাইফুল জামিনে মুক্তি পেয়ে পারভীন বেগমকে তার নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। একই সালের ২৬ জুলাই থেকে পারভীন নিখোঁজ হন। তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। পরে ৩০ জুলাই পারভীন বেগমের মরদেহ আবদুল করিমের বাড়ির  সেফটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ নিয়ে নিহতের বড় ভাই আজিজুর রহমান ৩০ জুলাই রাতে বাদী হয়ে সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তাঁকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় ছাইফুল ইসলাম, আবদুল করিম, পারভীন আকতার, আবদুল কুদ্দুস ও কোহিনুর বেগমসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়।