ঢাকায় পর্তুগালের মিশন খোলার প্রস্তাব দিয়েছেন মোমেন

ঢাকায় পর্তুগালের মিশন খোলার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। একই সঙ্গে পর্তুগিজ সরকারকে বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকায় ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য কিছু ব্যবস্থা এবং পর্যায়ক্রমে কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। পর্তুগালে শিক্ষার্থীদের তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের সুবিধার্থে এবং বাংলাদেশি অভিবাসীদের পরিবারের সদস্যদের পর্তুগালে তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছেন ড. মোমেন। পর্তুগালে জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলনের সাইড লাইনে পর্তুগিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জোয়াও গোমেস ক্রাভিনহোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এটি ছিল উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বৈঠকে দুই মন্ত্রী আগামী দিনে বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ষোড়শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যে ঐতিহাসিক সংযোগের কথা স্মরণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, পারস্পরিক সুবিধার জন্য বর্তমান সময়ে শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের উচিত সামনে এগিয়ে যাওয়া। তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ, নীল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর জোর দেন। পর্তুগিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পাশাপাশি দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন মোমেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, সদ্য উদ্বোধন হওয়া বহু বিলিয়ন ডলারের পদ্মা সেতু, যা সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নদীর ওপর নির্মিত, নতুন বাংলাদেশের প্রতীক যা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সাফল্য অর্জনে সক্ষম।

পর্তুগিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তার সরকারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পর্তুগিজ সমাজে একীভূত হওয়া এবং পর্তুগিজ অর্থনীতিতে অবদানের জন্য পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি পরামর্শগুলো নোট করে সেগুলো নিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন।

উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় স্তরে ‘জলবায়ু উদ্বাস্তু’ পুনর্বাসনের মতো জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ-পর্তুগাল কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সফরসহ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এজেন্ডা নিয়েও আলোচনা করেছে।

দুই মন্ত্রী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পর্তুগাল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যকর ভূমিকার অনুরোধ জানান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্তুগিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা খুশির সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন লিসবনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা।