কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে শিশু আইন পরিবর্তন করার সুপারিশ

শিশু আইন অনুসারে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বয়স কম হওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনতে সমস্যা হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিশু আইনে (শিশুর বয়স নির্ধারণ) পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আমলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। গতকাল রবিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এমন সুপারিশ উঠে আসে। বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মো.

মোজাম্মেল হক। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী, শ্রম প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পুলিশ প্রধানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, আইনে আগে ১৪ বছর পর্যন্ত শিশু হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু বর্তমানে এটা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৮ বছর করা হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের বাস্তবতার নিরিখে পরিবর্তন আনা দরকার। এই বয়সটা ১৮ বছরের নিচে আনার প্রয়োজন বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে দেশের প্রেক্ষাপটে ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশের আইনে কী আছে, সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনে পরিবর্তন আনতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কিশোর গ্যাং এখন যে হারে বিস্তৃতি লাভ করছে কিন্তু বয়সের কারণে আইন প্রয়োগ শিথিল হয়ে যায়। কীভাবে আইন তৈরি করা যায়, কীভাবে সময় উপযোগী করা যায় সেগুলো বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রাস্তার ওপর পশুর হাট, হাটে যে খাজনা নেওয়া হয় বা হাসিল, পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি, জোর করে হাটে পশু নামানোএ বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসন যেন সতর্ক থাকে কোনো ব্যবসায়ী বা ক্রেতাদের যাতে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। যত্রতত্র পশুর হাট বসানো যাবে না।’

তিনি বলেন, পশুর চামড়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দুই বছর আমরা লক্ষ্য করেছি মানুষ চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। আমাদের দেশে প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থাটা নেই, কাঁচা চামড়া বিদেশে বিক্রি করা যায় না। মধ্যস্বত্বভোগীরাই সব সুবিধা ভোগ করে। যারা চামড়া বিক্রি করে তারা খুব কম দাম পায়। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় অচিরেই সভা করে চামড়ার রেট ঘোষণা করবে।’