বৃহস্পতিবার থেকে আগামী বুধবার (১৩ জুলাই) পর্যন্ত এক জেলার মোটরসাইকেল অন্য জেলায় প্রবেশ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল পারাপার নিষিদ্ধ ও ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। লঞ্চেও মোটরসাইকেল পারাপার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিকল্প উপায় হিসেবে ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দিতে দেখা গেছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী মোটরসাইকেলকে।
পদ্মা নদীর উত্তাল ঢেউ উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ভাড়ায় দিনরাত শত শত মোটরসাইকেল পার করছে ট্রলার চালকরা। প্রতি মোটরসাইকেলে ভাড়া হিসেবে সর্বনিম্ন পাঁচ শ টাকা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ এভাবে মোটরসাইকেল পারাপার নিষেধ করলেও তা কার্যকর হয়নি।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে শিমুলিয়া বাজার ঘাটে এ চিত্র দেখা যায়। ২০-২৫টি ট্রলার দিয়ে এসব মোটরসাইকেল পারাপার করতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রাকে করে বার শ টাকায় এ বাহন পারাপার করতে দেখা গেছে। বুধবার সকাল থেকেই এ রকম চিত্র দেখা যায়।
তবে বিকাল ৬টার দিকে পদ্মা সেতুর উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন ট্রাকেও মোটরসাইকেল পারাপার বন্ধ করে দেন। এতে রাজধানী মোটরসাইকেল আরোহীরা বিপাকে পড়েন।
মোটরসাইকেল আরোহী সালাম ও রেশমী দম্পতি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী রবিবার ঈদ। চারদিনের মাথায় ঈদ। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। কিন্তু এখন কী করব? পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ। অতিরিক্ত ভাড়া গুনে ট্রাকে চড়ে যেতে চাইলাম পুলিশী বাধায় পারলাম না। এ পথে ফেরিও বন্ধ।
রেজাউল করিম জানান, ঢাকায় ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। এখন বাসায় ফিরতে চাচ্ছি কিন্তু এখন যেতে পারছি না। সঙ্গে অসুস্থ স্ত্রী রয়েছে।
এ বিষয়ে পদ্মা সেতুর উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চালকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে ট্রাক চালকেরা। তাই ঝুঁকি নিয়ে যেন সেতু পারাপার না হতে পারে এবং কোনো ধরনের দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য এ সিদ্ধান্ত।
মাওয়া নৌপুলিশ স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু তাহের মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, যেহেতু পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ ও ফেরি বন্ধ সে ক্ষেত্রে অবৈধভাবে কিছু অসাধু ট্রলার চালক এর সুবিধা নিতে চেয়েছে। আমি এবং আমাদের নৌ-পুলিশ মঙ্গলবার রাতে কিছু ট্রলার আটক করি। ট্রলারে করে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করে দিই। তবে অদূর থেকে চোখের আড়ালে যদি ট্রলারে করে মোটরসাইকেল পারাপার করতে পারে। যেহেতু পদ্মা নদী অনেক বড়। আর এ বিষয়ে আমরা জানা নেই। কেন না বুধবার সারাদিন আমি পদ্মা নদীতে টহল দিয়েছি। আমরা তৎপর রয়েছি।
বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, নাব্যতা সংকট ও দুর্ঘটনা এড়াতেই ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও এর আগে মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য ফেরি চলাচল চালু রাখা হয়েছিলো। কিন্তু উজান থেকে আসা বানের পানিতে প্রচুর পলি। সে পলি পড়ে চ্যানেল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৬ জুন) থেকে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করে সরকার। এর ফলে পরের দিন সকাল সোয়া ১০টায় ফেরি কুঞ্জলতা শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট ছেড়ে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে মাঝিরকান্দি ঘাটে পৌঁছায়। ফেরিটি ছেড়ে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পর নদীর লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে ডুবোচরে আটকে যায়। প্রায় ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় ডুবোচর থেকে ফেরিটি উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অনিদিষ্টকালের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।