মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদন্ডী আনোয়ারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মফিজ উদ্দিন সিকদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মুহাম্মদ আবদুল কাদের নামে জুঁইদন্ডী গ্রামের এক বাসিন্দা গত রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি মাওলানা মফিজ উদ্দিন ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে যাবতীয় ফি রশিদ ছাড়াই আদায় করে আসছেন। মাদ্রাসার নামে দান-অনুদানেরও কোনো হিসাব নেই। দুবছর পরপর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। কোনো ধরনের প্রচার বা নোটিস ছাড়াই সুপারের ইচ্ছেমাফিক গোপন কমিটি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। কমিটিতে কে বা কারা রয়েছেন তা মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এমনকি অনেক শিক্ষকরাও জানেন না। যার ফলেই দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটির আয়-ব্যয় হিসাবের কোনো হদিস নেই।

২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর সুপারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি মোহাম্মদ আইয়ুব ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির প্রধান মাওলানা আবদুর রহিম সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস পর অর্থাৎ ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই একটি সভা করেন। সভার সিদ্ধান্ত মতে ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসায় সরেজমিন গিয়ে নথিপত্র ও আয়-ব্যয় হিসাবে ব্যাপক গরমিল পায় তদন্ত কমিটি। ওই সময় ৯ বছরে ২৭ লাখ টাকা সুপারের কাছে পাওনা হয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এসব টাকা মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাবে জমা করার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত জমা করেননি বলে অভিযোগে বলা হয়।

মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের কোনো রশিদ তাদের দেওয়া হয় না। সুপারের অফিসে ডেকে নিয়ে খাতায় লিখে এসব ফি আদায় করা হয়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ফি আদায়ের দায়িত্ব আমাদের নেই। পরিচালনা কমিটির সভা হতে দেখিনি কখনো। আমরা শুধু ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মফিজ উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘মাদ্রাসার হিসাব-নিকাশ সবকিছু ঠিক আছে। এলাকার একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। তারা আগেও ষড়যন্ত্র করেছে।’

অভিযোগকারী মুহাম্মদ আবদুল কাদের নিজেকে অন্য একটি মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সুপার পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে এলাকাবাসীর পক্ষে ইউএনও বরাবর অভিযোগটি করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’