যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে গত রবিবার সারা দেশে পালিত হয়েছে মুসলমানদের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। যা অব্যাহত ছিল ঈদের তৃতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত।
করোনা সংক্রমণ ফের বাড়ায় জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে অংশ নেননি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বঙ্গবভনে তার পরিবারের সদস্য এবং বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গজনভি রোডের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্র (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১)-এ বসবাসরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের ফলমূল ও মিষ্টান্ন পাঠান।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান। ঈদুল আজহার প্রাক্কালে শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো এক পত্রে মোদি লিখেছেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে আপনাকে, আপনার পরিবার এবং বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে ঈদ মোবারক জানাচ্ছি।’
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে আওয়ামী লীগের পক্ষে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এতে অংশ নেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসল্লিরা।
ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন।
জাতীয় ঈদগাহ ছাড়াও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত হয় সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও শেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এলাকার মুসল্লিরা এ নামাজে অংশ নেন।
তবে রাজধানীর বেশিরভাগ মসজিদেই ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। নামাজ শেষেই শুরু হয় পশু কোরবানি। তবে এবার ঈদের দিন তেমন কোনো বৃষ্টি না হওয়ায় সবাই নির্বিঘেœ পশু কোরবানির কাজ শেষ করতে পেরেছেন।
সারা দেশের বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর প্রধানরা জাতীয় কর্মসূচির আলোকে নিজ নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন করে ঈদ উদযাপন করেন। ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধনিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতে যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়।
তবে এবার এমন একসময়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে, যখন করোনা মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক সংকট চলছে। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির এ সময়ে ঈদ উদযাপনে কেউ কেউ সতর্ক থাকলেও অনেকেই ছিলেন উদাসীন। এমনকি জনসমাগম স্থলে মাস্ক ছাড়াই অনেকেই ঘোরাঘুরি করেছেন।
এ বছর ভয়াবহতম বন্যায় উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বহু মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন। অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। বাধ্য হয়ে এখনো অনেকে আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গেও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে দেখা গেছে অনেক মানুষকে।