খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াটলি। গতকাল বুধবার সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেড় ঘণ্টা এ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে দুপক্ষের কেউ বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে গণমাধ্যমকে কিছু জানায়নি।

তবে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিএনপি নেতাদের কাছে জানতে চেয়েছেন। বিএনপি নেতারা রাষ্ট্রদূতকে এ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেছেন। একই সঙ্গে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার জন্য চিকিৎসকরা যে পরামর্শ দিয়েছেন এবং সরকার যে তা দিচ্ছে না সে সম্পর্কে তাকে জানানো হয়েছে। এছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপি কী ভাবছে এবং কী ধরনের নির্বাচন চান সে সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। কারণ ইইউ রাষ্ট্রদূত ইতিপূর্বে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, তারা আগামীতে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চান। ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ভর করবে বাণিজ্য, রাজনীতি, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ের ওপর। বিএনপিও দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়।

বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা আমাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। নতুন রাষ্ট্রদূতরা দেশে এলে একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করি। এছাড়া অন্য কিছু নয়।’

বৈঠকে মির্জা ফখরুল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে জাতিসংঘের নবনিযুক্ত আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

গতকাল ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর আমীর খসরু সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের মধ্যে যে প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো আছে, সব প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ওপরে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।’ তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে সম্প্রতি ইইউ রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো ইভেন্ট নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে থাকে।’

আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এমনটা প্রত্যাশা করে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটা অনেক বড় প্রক্রিয়া, বাংলাদেশের মানুষ ভোটের দিন সকালে উঠে যাতে বুঝতে পারে তার ভোটটি গণনা করা হয়েছে এবং তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’