ড্রাগ নিয়ে ১০ মাস নিষিদ্ধ ক্রিকেটার শহিদুল

খেলেছেন মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এখনই ধাক্কা শহিদুল ইসলামের। ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ এই পেসার ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে ১০ মাস ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হলেন। এই সময়ে কোনো ধরনের ক্রিকেটে দেখা যাবে না তাকে। আইসিসির ডোপিংবিরোধী আইনের ২.১ নম্বর ধারা ভঙ্গ করায় এই শাস্তি। অনিচ্ছাকৃত ও পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য না হওয়ায় এবং সাজা মেনে নেওয়ায় শহিদুলকে কমিয়ে ১০ মাসের শাস্তি দিয়েছে আইসিসি। তার শাস্তির মেয়াদ শুরু হয়েছে ২৮ মে থেকে। আগামী বছর ২৮ মার্চের পর ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন আবাহনীর হয়ে প্রিমিয়ার লিগে খেলা এ পেসার।

গত ৪ মার্চ টুর্নামেন্টের বাইরের কর্মসূচির আওতায় শহিদুলের মূত্র নমুনা নেয় আইসিসি। ওই নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ হন ২৭ বছর বয়সী শহিদুল। সেখানে ক্লোমোফিন নামক ওষুধের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই ওষুধ বিশ্ব অ্যান্টি ডোপিং অ্যাজেন্সি কর্র্তৃক যেকোনো অ্যাথলেটের জন্য নিষিদ্ধ। তবে আইসিসি নিজেদের বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘শহিদুল ইচ্ছাকৃতভাবে ওষুধটি সেবন করেননি। অন্য একটি অসুখের কারণে চিকিৎসকের দেওয়া বৈধ ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সেবন করেন, যাতে ছিল ক্লোমিফিন। পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য তিনি এমনটি করেননি।’

প্রশ্ন হলো, শহিদুল চিকিৎসকের বৈধ ব্যবস্থাপত্রে যদি ওই ওষুধ সেবন করে থাকেন তাহলে নিষিদ্ধ হবেন কেন? আইসিসি ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে ডোপিংবিরোধী নিয়ম শহিদুলকে জানতে হবে। তা না জেনে ওষুধ খাওয়ায় এই পেসারকে এই শাস্তি দেওয়া হলো। নিজের দায়িত্বে ভুল মেনে নিয়েছেন বাংলাদেশ পেসার।’ শহিদুলের অনিচ্ছাকৃত ভুলটা হলো, চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করেননি।

বাংলাদেশের হয়ে গত বছরের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন শহিদুল। এরপর নিয়মিতই টেস্ট দলে ছিলেন। গত দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে তার নমুনা সংগ্রহের সময়ও দলে ছিলেন। এরপর আফগান সিরিজের দলেও ছিলেন। চলমান উইন্ডিজের সফরের বাংলাদেশ দলেও তাকে রাখা হয়। তবে চোটের কারণ দেখিয়ে শহিদুলকে উইন্ডিজে পাঠায়নি বিসিবি। গত ২৮ মে স্বেচ্ছায় নিষেধাজ্ঞার জন্য রাজি হন শহিদুল। তাই তার মূল নিষেধাজ্ঞাও শুরু হয় ওইদিন থেকে।

শহিদুলের আগে সর্বশেষ ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ২০২০ সালের জুলাইয়ে। ওই সময়ে অনিক ইসলামকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যদিও সে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বিসিবি। আর শহিদুলের আগে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে নিষিদ্ধ হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান জুবায়ের হামজা। গত মে মাসে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় তাকে।