বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগস্টের মাঝামাঝি শুরু হতে পারে বলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি সূত্রে জানা গেছে। আর এসএসসির দুই মাস পর অর্থাৎ অক্টোবরের মাঝামাঝি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে পারে।
তবে সুনির্দিষ্টভাবে কবে থেকে এসব পরীক্ষা শুরু হবে সেটা আগামী রবিবার জানাবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনো সিলেটের কিছু প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র আছে। তবে এ মাসের মধ্যেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত হয়ে যাবে। এ ছাড়া যেসব শিক্ষার্থীর বইপত্র নষ্ট হয়েছে, সেগুলোও অ্যাসেস করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড থেকে তাদের জন্য বই পাঠানো হচ্ছে।’
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রমা বিজয় সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিলেটের পানি দ্রুতগতিতে কমছে। তবে ছাতক ও সুনামগঞ্জের কিছু স্কুলে এখনো আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে আগামী ২০ জুলাইয়ের পর স্কুল খুলবে। আশা করি, এ সময়ের মধ্যেই আশ্রয়কেন্দ্রের লোকজন বাড়ি ফিরতে পারবেন।’
শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে, প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে সাড়ে চার মাস পিছিয়ে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার ১৯ জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। আর শেষ হওয়ার কথা ছিল ৬ জুলাই। কিন্তু জুনের মাঝামাঝি সময়ে প্রবল বর্ষণ আর উজানের ঢলে সিলেট অঞ্চল এবং উত্তরের কয়েকটি জেলায় ব্যাপক বন্যা দেখা দিলে সরকার ১৭ জুন পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ২৯ হাজার ৫৯১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৭৯০ কেন্দ্রে এই পরীক্ষায় অংশ নেবে।