সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে খোলপেটুয়া নদীর দুর্গাবাটিতে বেড়িবাঁধ ভেঙে ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে এসব গ্রামের মাছের ঘের, ফসলি জমি ডুবে গেছে এবং ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় একের পর এক প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম। রাতের জোয়ারে পানির চাপ বাড়লে উপকূলীয় এ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির গতকাল দুপুরে বলেন, সম্ভবত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ২৫টি গ্রামের মধ্যে মূলত তিনটি গ্রামের ১ হাজার ২০০ পরিবার এই মুহূর্তে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বৃদ্ধা মনিজা রানী বলেন, ‘সকাল থেকে চোখের সামনে একের পর গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেল আর মানুষের সহায়সম্পদ যা কিছু ছিল সবকিছু লোনা জলে ভেসে গেল।’
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, প্রবল জোয়ারের চাপে ভেঙে গেছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ৪০ মিটার অংশ। এছাড়া দুর্বল হয়ে পড়েছে ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ২৫ থেকে ৩০টি স্থান।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, খোলপেটুয়া নদীর দুর্গাবাটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কমপক্ষে ২৫টি গ্রামের মাছের ঘের, ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। একের পর এক প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জুলফিকার আলী রিপন জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে সাতক্ষীরা শহরে বৃষ্টি নেই। কিন্তু উপকূলে বৃষ্টির আধিক্য দেখা দিয়েছে। তবে এ অবস্থা এখন চললেও তা কমে আসবে। কিন্তু জোয়ারের যে বেগ সেটি কমবে কি না বলা যাচ্ছে না।