বাড়তে পারে গ্যাস্ট্রাইটিস

ঈদের সময়টায় মাংস ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার-দাবার একটু বেশিই খাওয়া হয়। এ ধরনের খাবার-দাবার বেশি খাওয়ার ফলে অনেকের পেটে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আর গ্যাস ও জ¦ালাপোড়া হওয়াকে বলা হয় গ্যাস্ট্রাইটিস, এটি একটি সাধারণ সমস্যা। এটি পরিপাক নালির একটি রোগবিশেষ। পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে প্রদাহের কারণে গ্যাস্ট্রাইটিস হয়ে থাকে। গ্যাস্ট্রাইটিসের কারণে পেটের ওপর দিকে ব্যথা, জ্বালা, বুকজ্বালা, ঢেকুর তোলা, খাদ্য ওগরানো, বমির ভাব এবং কখনো কখনো বমি হয়।

গ্যাস্ট্রাইটিস কী?

পাকস্থলীর ভেতরে বিভিন্ন অ্যাসিড, এনজাইম প্রভৃতি উৎপন্ন হয়। কোনো কারণে এসব প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত তৈরি হলে পাকস্থলীর ভেতরে মিউকোসা নামক দেয়ালে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। পাকস্থলীর অ্যাসিড নিজেই নিজেকে আক্রমণ করে। তখনই পেটজ্বালা, পেটব্যথা শুরু হয়। এর সঙ্গে খাবার উগরে দেওয়া এবং বমির প্রবণতাও হতে পারে।

সবার জীবনেই কখনো না কখনো এ সমস্যা দেখা দিতেই পারে। সংক্রমণ, ওষুধ, ধূমপান, মদ্যপান, মানসিক চাপ এবং শরীরের প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত কারণগুলো গ্যাস্ট্রাইটিস হওয়ার মূল কারণ। এই রোগ দীর্ঘস্থায়ী কিংবা তীব্র হতে পারে। যদি উপসর্গগুলো খুব তীব্র হয় এবং কয়েক দিনের ভেতরে কমে যায় তখন তাকে একিউট গ্যাস্ট্রাইটিস বলা হয়। একিউট গ্যাস্ট্রাইটিসের তুলনায় ক্রনিক গ্যাস্ট্রাইটিসের উপসর্গগুলো খুব কম বা মধ্য মাত্রার হয় এবং রোগ বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে।

গ্যাস্ট্রাইটিসের উপসর্গ

পাকস্থলীতে জ্বালা হওয়া।

বুকের মাঝখানে জ্বালা করা।

খাবার খাওয়ার পর পেট ভার মনে হওয়া।

খাবার খেয়ে পানি খাওয়ার পর পেটব্যথা করা বা জ্বালা করা।

বমি ভাব, বমি, খাবার উগরে দেওয়া।

বারবার ঝাঁজালো ঢেকুর ওঠা, ক্ষুধামান্দ্য হওয়া।

 এসব ছাড়াও গ্যাস্ট্রাইটিসের কিছু তীব্র উপসর্গ রয়েছে, যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ নেওয়া উচিত। যথা

 পাকস্থলী বা উদরাঞ্চলে তীব্র ব্যথা।

 কালো মলত্যাগ হওয়া।

 রক্তবমি হওয়া।

 নিঃশ্বাসের কষ্ট হওয়া, দুর্বল লাগা।

করণীয়

সব ধরনের গ্যাস্ট্রাইটিসের কার্যকর চিকিৎসা এবং নিরাময় আছে। গ্যাস্ট্রাইটিস হওয়ার কারণ জানা গেলে তার জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসা করে রোগ সেরে যায়। সাধারণত অ্যান্টাসিড এবং বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োগে এ রোগের চিকিৎসা করা হয়। এ ছাড়া জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে এ রোগ থেকে বেঁচে থাকা যায় এবং রোগের তীব্রতা লাঘব করা যায়।

নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বারবার অল্প করে খাবার খাওয়া ভালো, কারণ একসঙ্গে অনেকটা খাবার খেলে পেটে অ্যাসিডের উৎপাদন বেশি হয়।

দুবার খাবার গ্রহণের মধ্যকার সময়ের পার্থক্য বেশি হলে অ্যাসিডের উৎপাদন হতে পারে, যা পাকস্থলীর আস্তরণের আরও ক্ষতি করতে পারে।

ধূমপান আরেকটি অভ্যাস যা পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে। কাজেই ধূমপান পরিত্যাগ করতে হবে।

অতিরিক্ত মসলাদার এবং ঝাল খাবার, তেলে ভাজা খাবার পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন করে ভেতরের আস্তরণের ক্ষতি করে। এগুলো কম খেলে গ্যাস্ট্রাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

দই, বাটার মিল্ক এগুলো খাদ্যে সংযুক্ত করা উচিত। এগুলো হলো প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক, যা পাকস্থলীর অ্যাসিডকে প্রশমিত করে।