কুমিরা ঘাটে কোমরপানিতে নামানো হয় যাত্রীদের

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের কুমিরা ঘাটে যাত্রীদের কোমরপানিতে নেমে কাদাপানি মেখে উঠতে হয় তীরে। বৃদ্ধ, নারী, শিশু, অসুস্থ সবাইকে এখানে পানিতে ভিজতে বাধ্য করা হয়। কারণ জোয়ার এলে বোট অস্থায়ী সেতুতে ভেড়ান না চালক।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা এমভি তাজউদ্দীন নোঙর ফেলেছে কুমিরা ঘাটে। একটু একটু করে জোয়ার বাড়ছে নদীতে। জাহাজ থেকে নেমে লাইফবোটে (লালবোট) চড়ে যাত্রীরা আসছেন কূলের দিকে। কিন্তু নতুন নির্মিত অস্থায়ী সেতুতে না নামিয়ে কোমরপানিতে নামিয়ে দিতে চাইলে বোটের ড্রাইভারের সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়িয়ে পড়েন যাত্রীরা। যাত্রীদের তোপের মুখে বোট ঘুরিয়ে সেতুর কাছে আনলেও ‘জোয়ারের কারণে বোট ভেড়ানো যাবে না’ বলে জানান ড্রাইভার। ফলে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয় কোমরসমান পানিতে। অথচ মাত্র কয়েক দিন আগেই যাত্রীদের ওঠানামার অসুবিধা দূর করতে চট্টগ্রামের কুমিরা অংশে ভেঙে যাওয়া জেটির সঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিকল্প সেতু নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ।

সন্দ্বীপ থেকে আসা আরেক যাত্রী স্বপ্না বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রাম এসেছি ভাটার সময়। তখনো কাদাপানিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জোয়ার বলেন, ভাটা বলেন কখনো সেতুটি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।’

কুমিরা ঘাটের পরিচালক শামছুল আলম দুলু বলেন, ‘সেতু করা হয়েছে পুরাতন সেতুর দক্ষিণ পাশে। জোয়ারের পানিও আসে দক্ষিণ দিক থেকে। এ অবস্থায় কোনোভাবেই লালবোট সেতুর কাছে ভেড়ানো যায় না। লালবোট সেতুর কাছে আনলেই স্রোতের কারণে সেতুর নিচে ঢুকে দুর্ঘটনা ঘটবে।’

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, যাত্রীদের ওঠানামার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সরকার ২০১২ সালে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে দুটি জেটি। কিন্তু ২০১৫ সালে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া অংশে নির্মিত জেটিটির অগ্রভাগের বিশাল অংশ ভেঙে যায়। আর চট্টগ্রামের কুমিরা অংশে নির্মিত জেটির ওঠানামার সিঁড়ির অংশও ভেঙে যায় গত মে মাসে। যাত্রীদের ওঠানামার দুর্ভোগ দূর করতে ভেঙে যাওয়া জেটির সঙ্গে বিকল্প আরেকটি সেতু নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ। প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০ ফুট দীর্ঘ এ বিকল্প সেতু তৈরি করা হয়েছে। স্টিল পাইলিং করে ওপরে দেওয়া হয়েছে কাঠের পাটাতন।

‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’ সংগঠনের সমন্বয়কারী খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘পরিপূর্ণ জোয়ারের সময় সার্ভিস বোট ও স্টিমারের যাত্রী নিয়ে লালবোট খালের ভেতরে জেলা পরিষদের জেটি দিয়ে ওঠানামা করতে পারে। ভাটা ও অল্প জোয়ারে প্রায় সময় সার্ভিস বোট ও স্টিমারের যাত্রীদের কোমরপানিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। শুধু স্পিডবোটের যাত্রীদের ওঠানামা করানো হয় সেতু দিয়ে।’

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যেভাবে সেতুটি তৈরি করেছি অবশ্যই লালবোট ভিড়তে পারার মতো উপযোগী। এটা তৈরি করায় বিআইডব্লিউটিএর সুনাম হয়ে গেছে। এখন জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রিত ঘাট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে বোঝাতে চাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএর সেতুটি কোনো কাজে আসছে না। ঘাট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে জোয়ার-ভাটা দুই সময়েই সেতুর মাধ্যমে সুন্দরভাবে যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে।’