রেলওয়ের অনিয়ম

চট্টগ্রাম স্টেশনে প্ল্যাকার্ড হাতে পাঁচ শিক্ষার্থী

দেশব্যাপী রেলের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং অনিয়ম বন্ধে ঢাকার পর ছয় দফা দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী। গতকাল রবিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান নেন তারা। এ পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন মাহিন রুবেল, আতিকুর রহমান, মো. মাসুদ, মাহবুব ও হাসান। দুপুরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী যাত্রীদের ভিড়ে পাঁচজন শিক্ষার্থী দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন এবং ছয় দফা দাবি পূরণের জন্য রেল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ তাদের কাজকে সমর্থন দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, ছবি তুলছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহিন রুবেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গত ১০ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আমাদের বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। সে গত মাসে সহজের মাধ্যমে টিকিট কাটতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয় এবং কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তারাও অসহযোগিতা করে। এরপর ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে ছয় দফা দাবিতে অনশন শুরু করে রনি। তার এ কাজকে আমরাও সমর্থন করেছি এবং আমরা চট্টগ্রাম স্টেশনে অবস্থান ও সচেতনতা কর্মসূচি পালন করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে রেলওয়ের কর্মকর্তারা আমাদের কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে বলেছেন। আমরা সুস্পষ্ট নির্দেশনা না পেলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

ঢাকা ফেরত এক যাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকায় একজনকে দেখলাম প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিয়েছেন এবং এখন দেখছি চট্টগ্রামে আরও কয়েকজন আছেন। রেলে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের যে পরিমাণ হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে এতে এ আন্দোলন ছাড়া কোনো পথ নেই। আমি তাদের সঙ্গে একাত্মা জানালাম।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার রতন কুমার চৌধুরী কোনো মন্তব্য না করলেও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন সংশ্লিষ্ট অনেকে এ শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক বলে জানিয়েছেন।

মহিউদ্দিনের ছয় দফা দাবি হলো টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সহজ ডট কম কর্তৃক যাত্রী হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা ও হয়রানির ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া, যথোপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ, অনলাইনে কোটায় টিকিট ব্লক করা বা বুক করা বন্ধ করা ও অনলাইন-অফলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া, ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক-তত্ত্বাবধায়কসহ অন্য দায়িত্বশীলদের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি ও শক্তিশালী তথ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে রেলসেবার মান বাড়ানো এবং ট্রেনে ন্যায্য দামে খাবার বিক্রি, বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।