চলতি ২০২২ সালের প্রথম ৫ মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯২টি নতুন ব্যাংক হিসাব খুলেছেন গ্রাহকরা। ফলে গত মে মাস শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ৫৭ লাখ ২১ হাজারে। গত ডিসেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৬টি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়েছে ২ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। গত মে মাস শেষে এ খাতের হিসাবগুলোতে জমা থাকা আমানতের স্থিতি ছিল ২৬ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে এই আমানতের স্থিতি ছিল ২৪ হাজার ৫৪ কোটি টাকা।
প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের মে মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৪৮ হাজার ২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকার এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলোর মাধ্যমে লেনদেন হয় ৩৭ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। শহর এলাকার এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলোর মাধ্যমে লেনদেন হয় ১০ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।
প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, গত মে মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৪৯০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয়। আগের মাস এপ্রিলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ হয় ৫২৮ কোটি টাকা; অর্থাৎ মে মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ কমেছে।
তবে আলোচিত মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ বেড়েছে। গত মে মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ হয় ১৫০ কোটি টাকা। আগের মাস এপ্রিলে বিল পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১১৩ কোটি টাকা।
গত মে মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা রেমিট্যান্স গ্রহণ করেছেন প্রবাসীদের স্বজনরা। আগের মাস এপ্রিলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণ ছিল ৩ হাজার ১৩ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস শেষে এ খাতের এজেন্ট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ হাজার ২৪০টিতে। আউটলেট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৬৪২টিতে।
প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা হিসাবগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশই গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের। বাকি ২০ শতাংশ হিসাব শহর এলাকার। পুরুষ গ্রাহকদের হিসাব ৫২ শতাংশ।
গত বছরের মে মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা ব্যাংক হিসাবের মধ্যে গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের হিসাব ছিল ৭৮ শতাংশ।
মূলত যেসব এলাকায় ব্যাংকের কোনো শাখা নেই বা শাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা অধিক ব্যয়বহুল ও লাভজনক নয়, সেসব এলাকায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতেই এই সেবা চালু করা হয়। ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি চালু হয় এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম।