সিলেট অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় যেসব শিক্ষার্থীর বই নষ্ট হয়েছে বা বানের জলে ভেসে গেছে তাদের নতুন বই দেবে সরকার। চলতি মাসের ২৪ তারিখের মধ্যেই তাদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার সিলেটে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব তথ্য জানান।
সিলেট সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কতজন শিক্ষার্থীর বই নষ্ট হয়েছে বা হারিয়ে গেছে তা হিসাব করে বের করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী নতুন বইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ মাসের ২৪ তারিখের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা নতুন বই পাবে। অন্যান্য শ্রেণির ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরাও বই পাবে।’
করোনার কারণে শিক্ষায় যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা পূরণের জন্য গবেষণা করে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘সপ্তাহ-১০ দিনের মধ্যে এ পরিকল্পনা প্রকাশ করব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। একইভাবে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শিক্ষার্থীদেরও বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষকদের এজন্য আন্তরিকভাবে একটু বেশি করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বন্যায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে জরিপ করছে। তাদের প্রতিবেদনের আলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো বন্যার্তরা রয়েছেন। আশা করছি দ্রুত তারা বাড়িতে ফিরে যাবেন। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠদানের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষক নিগ্রহের কথা উল্লেখ করে এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একশ্রেণির মানুষ দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করছে। তারা নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। বলছে ধর্মশিক্ষা নাকি বাদ দেওয়া হয়েছে। এগুলো শুধুই অপপ্রচার। এই অপপ্রচারকারীরা নিজেরা ঠিকমতো ধর্মচর্চা করে না, কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধা আদায় করতে চায়। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান রমা বিজয় সরকারসহ শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।