ঝড়, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর তলদেশ ক্রমাগত ভরাট হওয়ার কারণে খাগড়াছড়ি শহরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন রোধ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এজন্য নদীভাঙন রোধ করে সেচ সুবিধা ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘খাগড়াছড়ি শহর ও তৎসংলগ্ন অবকাঠামো নদীভাঙন হতে সংরক্ষণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ প্রকল্পসহ মোট আট প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৮৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ১২ হাজার ৪৪৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, খাগড়াছড়ির এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ প্রকল্পের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮৬ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ প্রকল্পটির মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, ১০ দশমিক ৮১ কিলোমিটার প্রতিরক্ষামূলক কাজ, চেঙ্গী নদী ড্রেজিং ৫৯ লাখ ঘনমিটার এবং মাইনী নদী ড্রেজিং ৭৬ দশমিক ৩৪ লাখ ঘনমিটার। এটি খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি, দীঘিনালা, মহলছড়ি, গুইমারা, নানিয়ারচর ও লংগদু উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি জেলা ও দীঘিনালা উপজেলায় অবস্থিত জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জনবসতি, ফসলি জমি এবং বনজ সম্পদগুলোকে ভাঙন হতে রক্ষা করা, ঝড়, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর তলদেশ ক্রমাগত ভরাট হওয়া বন্ধকরণ, নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা ও নৌযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভূ-উপরিস্থ পানিনির্ভর সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণ।
অনুমোদন পাওয়া এ প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে।
পরিকল্পনা কমিশন মতামতে বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, লবণাক্ত পানির প্রবেশ রোধ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ‘খাগড়াছড়ি শহর ও তৎসংলগ্ন অবকাঠামো নদীভাঙন হতে সংরক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ৫৮৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে অনুমোদন করা হলো।