ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মো. বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৭ জুলাই মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য মো. মন্তাজ মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বকুল মিয়া সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে মাদ্রাসার পুরানো টিনের ঘর বিক্রি করে ২ লাখ টাকা, শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের ৩১ হাজার ৮০০ টাকা, ম্যানেজিং কমিটির জামানতের ৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া মাদ্রাসার নামে থাকা ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকার জলাশয় মাত্র ৬০ হাজার টাকা দেখিয়ে সভাপতি তার নিজের নামে লিজ নিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বকুল মিয়া হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে অত্র মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি দেখিয়ে তার পিতা মিজানুর রহমানকে মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য বানিয়েছেন। মিজানুর রহমানের সহযোগিতায় তিনি এ প্রতিষ্ঠানে সব দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এসব বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি বকুল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, টিনের ঘর বিক্রি ও ফরম ফিলাপের টাকা আমার কাছে রয়েছে। এসবের সমস্ত কাগজপত্রও আমার কাছে আছে।’
হরিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজী মো. ফারুক মিয়া বলেন, ‘বকুলের বিরুদ্ধে এমন আরও বহু অভিযোগ রয়েছে। পূর্বেও বকুল হরিপুরের দুই বিধবা নারীকে সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগিতায় তা ফেরত দেয়।’
মাদ্রাসার সুপার মো. হারুনুর রশীদ এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোনাব্বর হোসেন বলেন, ‘মাদ্রাসা সভাপতি বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তাকে আগামি তিনদিনের মধ্যে এসব বিষয়ে সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।’