স্মার্টফোনে ভূমিকম্পের সতর্কতা বাংলাদেশেও

ভূমিকম্পের সময় ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতে কয়েকটি দেশের মতো বাংলাদেশেও অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম চালু করেছে গুগল। গতকাল মঙ্গলবার থেকে হালনাগাদ করা অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম-চালিত স্মার্টফোনে বিনামূল্যে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গুগল জানিয়েছে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এ সুবিধা চালু করে গুগল। পর্যায়ক্রমে নিউজিল্যান্ড, গ্রিস, কাজাখস্তান, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, ফিলিপাইন, তাজিকিস্তান, তুরস্ক, তুর্কমিনিস্তান ও উজবেকিস্তানে সিস্টেমটি উন্মুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম মূলত ভূপৃষ্ঠের কম্পন পর্যালোচনা করে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পাঠায়। ভূমিকম্পের উৎস এবং মাত্রা সম্পর্কে জানানোর পাশাপাশি নিরাপদ থাকার পরামর্শও দিয়ে থাকে। ফলে এখন থেকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প হলে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি নিরাপদ থাকার কৌশল জানাবে গুগল।

অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম কাজে লাগিয়ে চাইলে অনলাইনেও বাংলাদেশে ভূমিকম্পের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। গুগল সার্চে ‘আর্থকোয়েক’ বা ‘আর্থকোয়েক নিয়ার মি’ লিখে সার্চ করলেই বাংলাদেশে সম্প্রতি কোনো ভূমিকম্প হয়েছে কি না, তা জানা যাবে।জানা যাবে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল এবং দূরত্বও।

ভূমিকম্পের তথ্য সংগ্রহের জন্য গুগল মূলত ব্যবহারকারীদের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে থাকা অ্যাক্সিলারোমিটার সেন্সর সুবিধা ব্যবহার করে থাকে। অ্যাক্সিলারোমিটার ভূমিকম্প উৎপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক ‘পি’ তরঙ্গ বা ভূপৃষ্ঠের কম্পন শনাক্ত করতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম চালু থাকলে ভূপৃষ্ঠের কম্পন শনাক্ত হলেই গুগলের সার্ভারে তথ্য পাঠাতে থাকে স্মার্টফোন।

বিভিন্ন স্মার্টফোন থেকে পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণের পর ভূমিকম্পের মাত্রা বুঝে ব্যবহারকারীদের ‘বি অ্যাওয়ার’ ও ‘টেক অ্যাকশন’ নামে সতর্কবার্তা পাঠায় গুগল। সাধারণত ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ‘বি অ্যাওয়ার’ বার্তা পাঠানো হয়। এ সময় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থলের তথ্য জানানোর পাশাপাশি নিরাপদে থাকারও বিভিন্ন পরামর্শ দেয় গুগল। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৪ দশমিক ৫-এর বেশি হলে পাঠানো হয় ‘টেক অ্যাকশন’ বার্তা। এ সময় ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা বাজতে শুরু করে।