ফেইসবুকের স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দীঘলিয়ায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের বাড়ি-ঘর, মন্দির, দোকানপাট পরিদর্শন করেছেন দুই প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তারা সেখানে যান। তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও আওয়ামী লীগ পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা বীরেন শিকদার, অসীম কুমার উকিল, পংকজ নাথ, পঞ্চানন বিশ্বাস, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক জাতীয় ক্রিকেট তারকা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজগর আলী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সরদার অহিদুর রহমান প্রমুখ।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টে স্বাধীনতাবিরোধীচক্র ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভয় দিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন করা হবে। আপনাদের এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে যাতে সব সম্প্রদায়ের লোক সম্প্রীতির বন্ধনে অটুট থেকে বসবাস করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন যেকোনো অপতৎপরতা সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করবে।
বিকেলে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার্থে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন দুই প্রতিমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই লোহাগড়া উপজেলার দীঘলিয়া সাহাপাড়ার কলেজছাত্র আকাশ সাহা ফেইসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে ধর্ম অবমাননা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওইদিন জুমার নামাজের পর একদল লোক আকাশ সাহার গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে তাদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে সাহাপাড়ার পাঁচটি বাড়ি ও দীঘলিয়া বাজারের ছয়টি দোকান ভাংচুর করা হয়। এর মধ্যে গোবিন্দা সাহার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া সাহাপাড়ার মন্দিরের চেয়ার ও সাউন্ডবক্স এবং আখড়াবাড়ি মন্দিরের টিনের চালা ভাঙচুর ও মহাশ্মশান কালীবাড়ি মন্দিরে হামলা চালানো হয়।
‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ জনকে।