ময়মনসিংহের ত্রিশালে মহাসড়কে দুর্ঘটনার সময় বাবা-মা হারিয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর আইনি অভিভাবককে আপাতত ৫ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারা অনুযায়ী গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ১৫ দিনের মধ্যে এ নির্দেশ প্রতিপালন করতে হবে। একই সঙ্গে ওই নবজাতকের দেখভাল ও তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্তে একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। রুলে নবজাতকের আইনগত অভিভাবককে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব, বিআরটিএর (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ট্রাক মালিককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত শনিবার বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রতœার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিল ছয় বছরের শিশু সানজিদা। উপজেলার কোর্ট ভবনের সামনের এলাকায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক পার হচ্ছিলেন তারা। এ সময় বেপরোয়া একটি মালবাহী ট্রাক তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান। তবে দুর্ঘটনার সময় মায়ের পেট চিরে ভূমিষ্ঠ হয় ফুটফুটে এক কন্যাশিশু। দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শিশুটির বাম হাত ভেঙে যায়। স্থানীয় একটি হাসপাতালে কয়েক দিন চিকিৎসার পর শিশুটি এখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শিশুটির জন্য ক্ষতিপূরণ, কল্যাণ নিশ্চিত এবং প্রতিপালনে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে গত সোমবার হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন আইনজীবী কানিজ ফাতিমা তুনাজ্জিনা। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসাইন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা। ব্যারিস্টার মাহসিব হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিট আবেদনটি উপস্থাপনের পর তা সংশোধন করতে বলেছিলেন আদালত। পরে এতে সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারায় গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিশুটির অভিভাবকের হাতে আপাতত ৫ লাখ টাকা এবং তাকে তত্ত্বাবধান করতে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আমরা শিশুটির কল্যাণে এ রিট মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আরজি জানিয়েছিলাম। আদালত এ বিষয়ে আমাদের আশ^স্ত করেছেন।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রতিকার চাকমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালত অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ দিয়ে এটি প্রতিপালনের বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবজাতক ও তার দুই ভাইবোনের সহায়তার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। যারা নবজাতক শিশু ও তার বোন জান্নাত এবং ভাই এবাদতকে সহায়তা করতে চান, তারা ব্যাংক হিসাবে সহায়তা পাঠাতে পারবেন। হিসাব নম্বর: ৩৩২৪১০১০২৮৭২৮ সোনালী ব্যাংক, ত্রিশাল শাখা। হিসাব পরিচালনা করবেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নবজাতকের দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু।
নবজাতকের বড় বোন জান্নাত তার নাম রেখেছে ফাতেমা। জান্নাত বলেন, ‘আমি আম্মুকে বলেছিলাম আমাদের ছোট বোন হলে তার নাম ফাতেমা রাখব। আম্মু বলেছিল ঠিক আছে।’