সারা বিশে্ব পরিবহন ও সিমেন্টের কাঁচামালের ঊর্ধ্বগতির সময়েও উৎপাদিত পণ্য বিক্রি ও নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড। বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর অ্যাগ্রিগেট ব্যবসা পুনরায় শুরুর পাশাপাশি করপোরেট কর কমানোর সুফল পেয়েছে কোম্পানিটি। ফলে চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে ৯ শতাংশ। গতকাল প্রকাশিত চলতি প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।
ভারতে লাফার্জহোলসিমের নিজস্ব খনি থাকায় সিমেন্টের কাঁচামাল নিয়ে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি কোম্পানিটিকে। বরং কাঁচামালের ঊর্ধ্বগতির এ সময়টাতে অন্য কোম্পানির কাছে ক্লিংকার বিক্রি করে কিছু আয়ও করেছে লাফার্জহোলসিম। চলতি প্রথম প্রান্তিকে অ্যাগ্রিগেট ব্যবসা বন্ধ থাকায় এ খাত থেকে আয় কমে গিয়েছিল। তবে গত ২৮ মার্চ থেকে পুনরায় অ্যাগ্রিগেট ব্যবসার অনুমোদন পাওয়ায় চলতি প্রথমার্ধে এ খাত থেকে ৭১ কোটি টাকা আয় এসেছে, যা কোম্পানির বিক্রি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে গতকাল লাফার্জহোলসিমের পর্ষদ চলতি ২০২২ সালের প্রথমার্ধের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ হারে অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর ফলে ১৭৪ কোটি টাকা অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হবে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময়ে লাফার্জহোলসিমের পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৫০১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। উৎপাদন ব্যয় শেষে এ সময় মোট মুনাফা হয়েছে ১৭৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফা হয় ১২৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১৮ কোটি টাকা।
ডলারের বিপরীতে টাকার বড় অঙ্কের অবমূল্যায়নের প্রভাব পড়েছে লাফার্জহোলসিমের আর্থিক ব্যয় খাতে। চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি মুদ্রা বিনিময় হারে ৯ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৪২ লাখ টাকা। এতে করে কোম্পানির আর্থিক ব্যয় অনেকটাই বেড়েছে। তবে মুদ্রা বিনিময় হারে বড় লোকসান হলেও করপোরেট কর হার ২২ দশমিক ৫ থেকে ২০ শতাংশে নেমে আসার সুফল পাচ্ছে কোম্পানিটি। চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয়কর সমন্বয়ের ফলে উল্টো ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা আর্থিক প্রতিবেদনে ফেরত আনতে পেরেছে। এ কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিমের কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে। এ সময় কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১২২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।
লাফার্জহোলসিমের প্রথমার্ধে পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি। কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের প্রথমার্ধের চেয়ে ১ শতাংশ বেড়ে ২১৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মূলত করপোরেট কর সমন্বয়ের কারণে আয় আগের বছরের তুলনায় ১১ কোটি টাকা কম দিতে হয়েছে। এটিই নিট মুনাফায় সামান্য প্রবৃদ্ধি থাকার প্রধান কারণ।
এ বিষয়ে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজেশ সুরানা জানিয়েছেন, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্যে নানামুখী তৎপরতা, ব্যয় সংকোচন এবং উদ্ভাবনের প্রতি আমাদের অব্যাহত আলোকপাতের মাধ্যমেই এই ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে, যা বছরের বাকি সময়ের জন্য মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছে। আমাদের উদ্ভাবনী পণ, বিপণন ব্যবস্থা, নতুন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা এই ফলাফল অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। বছরের বাকি সময়টাতে সিমেন্ট শিল্পে প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।