শপথ নিয়েই বিরোধীদের হুঁশিয়ারি রনিলের

আর্থিক দুর্দশাগ্রস্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন রনিল বিক্রমাসিংহে। গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে কঠোর নিরাপত্তা প্রহরার মধ্য দিয়ে ৭৩ বছর বয়সী রনিল বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। গত বুধবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রনিল বিক্রমাসিংহে।

তবে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে না মানার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকালও প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এলাকায় কিছু বিক্ষোভকারী অবস্থান করছিলেন। তাদের ‘রনিল বিদায় হও’ সে্লাগান দিতে দেখা যায়।

এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রাজধানী কলম্বোয় একটি বৌদ্ধমন্দিরে প্রার্থনা শেষে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘তোমরা যদি সরকার উৎখাতের চেষ্টা করো, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখল করে রাখো, তবে তা গণতন্ত্র নয়। এগুলো আইনের পরিপন্থী কাজ।’

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনপ্রত্যাশী নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠদের আকাক্সক্ষা ভূলুণ্ঠিত করতে চাওয়া স্বল্পসংখ্যক বিক্ষোভকারীকে আমরা কোনো সুযোগ দেব না।’

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরপরই বিক্রমাসিংহে পার্লামেন্টের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের বিশেষ শাখা ও সেনা ইউনিটের সঙ্গে দেখা করেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকের সুরক্ষা দেওয়ায় তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।

চলতি বছরের শুরুতে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কায় রাজাপাকসেদের উৎখাতে রাজপথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে গদি ছাড়তে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা দুই ভাই গোতাবায়া ও মাহিন্দা রাজাপাকসে। গোতাবায়া দেশ ছেড়ে পালান মালদ্বীপ হয়ে সিঙ্গাপুর। এরপর প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পরে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নামেন রনিল। তবে তাকে রাজাপাকসেদের অনুসারী আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভকারীরা নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনিল নামের এক ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘এই লোকগুলো ৭০ বছর ধরে দেশ শাসন করেছেন। তারা চুরি করে আসছেন। আমরা কীভাবে আশা করি, ভালো কিছু হবে।’

নুজলি হামিম নামের শীর্ষস্থানীয় এক আন্দোলনকারী বলেন, এই নির্বাচনে জনগণ হয়তো কিছুটা হাঁপ ছেড়েছে। তবে এক বছরের মধ্যে নতুন নির্বাচন দিতে হবে।