ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের প্রার্থী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নারী দ্রৌপদী মুর্মু। দেশটির ৭৫ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি।

গতকাল বৃহস্পতিবার তিন দফায় ভোট গণনা শেষে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত হতে প্রয়োজনীয় ভোটের চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে ইতিহাসের অংশ হলেন মুর্মু। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে জিততে যে ভোটমূল্য দরকার ছিল তার ৫০ শতাংশের বেশি পেয়ে ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

আগামী ২৪ জুলাই বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদ শেষ হবে। ২৫ জুলাই শপথগ্রহণের মাধ্যমে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন দ্রৌপদী মুর্মু।

রাষ্ট্রপতি পদে লড়াইয়ে মুর্মুর প্রতিদ্বন্দ্বী যশবন্ত সিনহা এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘আমি ২০২২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয় পাওয়ায় দ্রৌপদী মুর্মুকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। আমি আশা করি প্রকৃতপক্ষে, প্রতিটি ভারতীয় আশা করে যে, ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ভয়ডরহীন অথবা পক্ষপাত ছাড়াই সংবিধানের রক্ষক হিসেবে কাজ করবেন।’

ভারতের পঞ্চদশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দ্রৌপদী মুর্মুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘ভারতে ইতিহাস রচিত হলো। ১৩০ কোটি ভারতবাসী যখন স্বাধীনতার মহোৎসব পালন করছে, সে সময় পূর্ব ভারতের আদিবাসী সমাজের এক মেয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। এই জয়ের জন্য তাকে অনেক অভিনন্দন।’

ফলাফল প্রকাশের পরপরই দ্রৌপদী মুর্মুরের সঙ্গে দেখা করে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোদি।

দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তর থেকে রোড শোর মাধ্যমে মুর্মুর বিজয় উদযাপন করা হয়। এ ছাড়া বিজেপির অন্যসব রাজ্য শাখায়ও বিজয় মিছিল বের হয়।

প্রথম আদিবাসী হিসেবে দেশের রাষ্ট্রপতির পদে একজন সাঁওতাল নারীর জয়ে দেশজুড়ে এই সম্প্রদায়ের সদস্যরা উল্লাস করছেন, উদযাপন শুরু করেছেন।

শিক্ষকতা করেছেন দ্রৌপদী মুর্মু। ৬৪ বছর বয়সী ওড়িশার এই আদিবাসী নারী কয়েক দশক ধরে বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ঝাড়খণ্ড প্রদেশের প্রাদেশিক গভর্নর পদেও ছিলেন তিনি।