বৈদ্যুতিক বাতি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার ছাড়াই নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রগতিবিষয়ক বৈঠক করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রাকৃতিক আলোতে হওয়ায় এই বৈঠকে নির্ধারিত সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও কোম্পানির নবায়ণযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা হয়।
সভার শুরুতে নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কাজটি আমরা নিজের ঘর থেকেই শুরু করেছি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সব মিটিংয়ে আমরা এসি বন্ধ রাখছি। প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার বাড়িয়ে বৈদ্যুতিক বাতিও যথাসম্ভব কম ব্যবহার করছি।
চলমান জ্বালানি সংকটে সারা বিশ্বই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। আসুন আমরাও দেশের স্বার্থে যার যার অবস্থান থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হই।’
নসরুল হামিদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি বাড়াতে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি আশানুরূপ হচ্ছে না। সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা থাকলেও কাক্সিক্ষতভাবে সাফল্য আসছে না। সরকারি যেসব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করা হলো সেখানে সোলার বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প দ্রুত হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম বাড়াতে হবে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জায়গা পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা জয়েন্ট ভেঞ্চার বা সুবিধাজনক কোনো প্রক্রিয়ায় জমির যথাযথ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী এ সময় নেট মিটারিং কার্যক্রমের অগ্রগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নেট মিটারিং একটি চমৎকার বিজনেস মডেল। এর ফলে সময়, অর্থ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। নেট মিটারিং কার্যক্রম প্রসারে প্রতিটি বিতরণ কোম্পানি এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (স্রেডা) সমন্বিতভাবে কাজ করা উচিত।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্দেশ বাস্তবায়নে কঠোর থাকবে সরকার : গতকাল অনলাইনে বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে ব্যয় সংকোচন সংক্রান্ত সভায় গৃহীত বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য প্রযোজ্য সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
সভায় লোডশেডিংয়ের তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহকদের অবহিত করা, রাত ৮টার পর দোকানপাট, শপিং মল, মার্কেট, বিপণিবিতান বন্ধের বিষয়টি মনিটরিং জোরদার, ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সভাগুলো করা, বিদ্যুৎসাশ্রয়ে বাতি ও এসি সর্বোচ্চ কম ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার সুবিধার্থে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রশাসন) আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যের মাঝে পিডিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান মোহাং সেলিম উদ্দিন, পাওয়ার সেলের ডিজি মোহাম্মদ হোসাইনসহ দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা সংযুক্ত ছিলেন।