চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় অভিযান চালিয়ে পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত তিনটি স্ক্যাভেটর, ৬টি ড্রাম ট্রাক ও একটি ট্রাক জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা হয়নি।
শুক্রবার দিনভর সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা ‘আলীনগর রাজ্যে’ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, পাহাড় কাটার এসব সরঞ্জাম সেখানকার ‘রাজা’ ইয়াসিন ও তার ভাই ফারুকের।
তবে, সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম বলেন, অভিযানকালে আমরা কাউকে আটক না করলেও কয়েকজনের নাম পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।
অভিযান চলাকালে আলীনগরের পুরো এলাকা প্রায় ফাঁকাই দেখতে পাওয়া যায়। তবে কিছু সংখ্যক নারী-পুরুষকে নির্ভার ঘুরতে দেখা যায়। তাদের বিশ্বাস, ‘রাজা ইয়াসিন জেল থেকে বের হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তার সামনে কেউ টিকতে পারবে না। তার ক্ষমতার কাছে সবাই পরাজিত হবে। কারও কারও ধারণা টাকার বিনিময়ে সে সবকিছু ঠিক করে ফেলবে।’
কৌতুহলবশত কয়েকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, এর আগে কখনো এই এলাকায় অভিযান পরিচালনা না হলেও বিভিন্নভাবে অনেকবারই পাহাড় কাটার কাজে ইয়াসিন বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিবারই ক্ষমতা ও টাকার জোরে সব বাঁধা সে এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়।
কুমিল্লা থেকে আলীনগরে এসে বসতি স্থাপনকারী কোহিনুর বেগম বলেন, ‘রাজা ফিরে এলে সব আগের মতো হয়ে যাবে আবার। তাদের বিশাল বাহিনী রয়েছে, টাকাও রয়েছে। তাই চিন্তার কোন কারণ নাই।’
প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামে এসে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নে আস্তানা গাড়ে ইয়াসিন ও ফারুক নামে দুই ভাই। তারা জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম এলাকার তিন শত একর পাহাড় কেটে ‘আলীনগর’ নামের একটি দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। পরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দাগি আসামি ও সন্ত্রাসীদের এনে এখানে গড়ে তোলে তার নিজস্ব বাহিনী। একরের পর একর পাহাড় কেটে প্লট করে বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যায় এই দুই ভাই।
সম্প্রতি সরকার জঙ্গল সলিমপুরের খাস জমিতে কয়েকটা বৃহৎ কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী তথ্যমন্ত্রীসহ কয়েকজন এমপি, সিটি মেয়র ও বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা একাধিকবার এই এলাকা পরিদর্শন করেন। এতে ক্ষেপে গিয়ে গত ১৫ জুলাই সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যকে বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের তথ্যমতে, ইয়াসিন নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার কেশার পাড়া এলাকার মৃত সামছুল হকের পুত্র। দীর্ঘদিন যাবৎ সে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে বসবাস করার সুবাদে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে। বাহিনী দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। হত্যা, ধর্ষণসহ বহু মামলার আসামি সে। এরই মধ্যে কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছে। কয়েক দিন কারাভোগ করে জামিনে বেরিয়ে আসে। ইয়াসিন বাহিনীর ক্যাডাররা একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। বেশ কয়েকটি মামলা চলমান এবং কিছু মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এ ছাড়াও পাহাড়ের কাঠ পাচার অস্ত্র চোরাচালানসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সে।