ফেইসবুক বাংলাদেশে বাণিজ্য করছে কিন্তু দায়বদ্ধতার পরিচয় দিচ্ছে না

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক একাধারে লেখক, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও প্রকাশক। দেশের নানা প্রগতিশীল সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সংগঠকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন তিনি। প্রবন্ধ সাহিত্যের জন্য ২০১৪ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলার্সের সদস্য এবং ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস’-এর প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক তিনি।  সম্প্রতি নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের ওপর হামলা এবং শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনা, সামাজিক পরিসরে বিদ্বেষ ও অপপ্রচারসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন মফিদুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদকীয় বিভাগের আহমেদ মুনীরুদ্দিন

দেশ রূপান্তর : সম্প্রতি নড়াইলে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হলো। এক্ষেত্রেও সেই পুরনো প্যাটার্নেই হামলা করা হলো। প্রথমে ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কোনো একজন ব্যক্তিকে ফাঁসানো, তারপর হিন্দু-বৌদ্ধদের মন্দির-প্যাগোডা থেকে শুরু করে সাধারণ সংখ্যালঘু মানুষদের বসতবাড়ি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া। এ ধরনের হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না কেন? আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

মফিদুল হক : প্রথমত এ ধরনের হামলার ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক, অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দ্বিতীয় যে বিষয়টি, হামলা ঠেকতে না পারা, বা এসব প্রতিরোধ করার যে শক্তি সেটা আমরা কেন হারিয়ে ফেললাম তার কারণগুলো আমাদের অনুসন্ধান করা দরকার, সেসব নিয়ে বিশদ আলোচনা করা দরকার। আর এই তথাকথিত ধর্ম অবমাননার যে অভিযোগ তোলা হয় অনেক ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে যে সেটা করা হচ্ছে কোনো একটা ফেইক আইডি থেকে কিংবা কোনো ব্যক্তির ফেইসবুক আইডি হ্যাক করে বা অন্য কোনোভাবে। আবার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার যে অভিযোগ তোলা হয়, সেটা একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু যখন হামলা চালানো হয় তখন ওই ব্যক্তির পরিবারসহ গোটা এলাকা বা গ্রামে ওই ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা করা হয়। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে একজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয় কিন্তু আক্রমণ করা হয় পুরো গোষ্ঠীকে। একজন ব্যক্তির অপরাধ যদি প্রমাণিতও হয় তার জন্য পুরো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে হামলা করার তো কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। এক্ষেত্রে ‘মব ফ্রেঞ্জি’র কথা বলা হয়, বলা হয় যে ‘উন্মত্ত জনতা’ হামলা চালিয়েছে। আর পুলিশও খুব সুন্দরভাবে অজ্ঞাতনামা চারশো পাঁচশো মানুষের বিরুদ্ধে মামলাও ফেঁদে বসে। দীর্ঘদিন ধরে এরকম একটা চক্রের মধ্যেই ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হচ্ছে। আর এই চক্রটা এই প্যাটার্নটাও আমাদের খুবই চেনা হয়ে গেছে। কিন্তু এই প্যাটার্ন আমাদের জানা হলেও এখান থেকে আমরা শিক্ষা নিচ্ছি না। প্রথমত এই শিক্ষা নেওয়া দরকার আমাদের পুলিশ প্রশাসনের। সারা দেশে এতগুলো ঘটনা থেকে পুলিশ কী শিখল? তাদের কাজে তো কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কোনো ঘটনাতেই পুলিশকে প্রো-অ্যাকটিভ দেখা গেল না। তারা বরাবরই রি-অ্যাকটিভ। আবার সেই রি-অ্যাকশনও খুবই বিলম্বিত। অর্থাৎ এমন হামলার ঘটনায় পুলিশের কর্মকা-ও একটা প্যাটার্নের মধ্যে চলে এসেছে। এমন হামলার চক্রটা কোথায় তা দৃঢ়তা নিয়ে ভাঙতে হবে। শক্তভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। কোনো এক জায়গায় সেটা করা হলে সমাজে সেটার প্রভাব পড়ত। কোথাও যে সেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাচ্ছে না সেটাও কিন্তু বারবার এমন হামলার কারণ। একটা বিষয় স্পষ্ট যে এই ধরনের হামলা ঘটানো হচ্ছে। কারা সেটা ঘটাচ্ছে, কীভাবে ঘটাচ্ছে তারও একটা ধারণা আমরা পাচ্ছি। কিন্তু তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে না। আসলে ঘটনা তো চারশো পাঁচশো মানুষ ঘটাচ্ছে না। কারা তাদের উসকানি দিচ্ছে, কারা এমন জঘন্য হামলায় মদদ দিচ্ছে তাদের নাম-ধাম সামনে আনা দরকার। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।  

দেশ রূপান্তর : আমরা দেখছি যে সময়কালে দেশে এমন সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে, হিন্দুদের ওপর হামলা বাড়ছে, একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সমাজের নানা স্তরে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোও বেড়ে চলেছে। বিশেষত ফেইসবুক-ইউটিউবে একশ্রেণির ওয়াজকারীরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। কিন্তু এসব অডিও-ভিডিও কন্টেন্ট মুছে দেওয়া এবং এমন অপ্রচার-বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। 

মফিদুল হক : শুরুতেই বলছিলাম যে এসব হামলার একটা প্যাটার্ন এখন আমরা সবাই দেখছি। আর এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটা বড় অবলম্বন হিসেবে কাজ করছে। ফেইসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি সবকিছুই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, সে বিষয় আমরা সচেতন নই। অবস্থাটা এমন যে সবাই এখানে খুবই স্বাধীনভাবে যা খুশি তা-ই করতে পারছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের একটা সীমারেখা টানা আছে। আপনি এমন কোনো পোস্ট দিতে পারবেন না যা অপরের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেয়; আপনি এমন কোনো পোস্ট দিতে পারবেন না যা অপরের বিরুদ্ধে ঘৃণা সঞ্চার করে। এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও এ বিষয়ে রেজ্যুলেশন নেওয়া হয়েছে এবং ফেইসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এখন ফেইসবুকসহ এই মাধ্যমগুলোও বলছে যে তারা একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট অথরিটি তৈরি করে দিয়েছে যারা এসব মনিটর করবে এবং আইডি ব্লক করাসহ নানা পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু আমরা দেখছি যে ফেইসবুক বাংলাদেশে বাণিজ্য করছে কিন্তু কোনো দায়বদ্ধতার পরিচয় দিচ্ছে না। এজন্য ফেইসবুককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ফেইসবুকের দায় নিয়ে ক্ষতিপূরণের মামলাও করা যায়। মিয়ানমারেরর সিভিল সোসাইটি ফেইসবুকের বিরুদ্ধে এমন বেশ কিছু মামলাও করেছে।

এখন ফেইসবুক বলছে তারা বাংলাদেশেও এমন গেটকিপার নিয়োগ করেছে। তারা কারা? তারা কি দায়িত্ব পালন করছে? আমরা যদি গত ছয় মাসের বা এক বছরের ঘটনাপ্রবাহও দেখি, সেগুলো বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখা যাবে ফেইসবুক এমন সব আইডি ব্লক করেছে যারা বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে উদার, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা ও সম্প্রীতির আদর্শ প্রচার করছে। কিন্তু ফেইসবুক মনে করছে যে এসব আইডির বিভিন্ন পোস্ট ইসলামের কোনো কোনো গোষ্ঠীর চিন্তার বিরুদ্ধে যাচ্ছে, তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে ফলে তারা সেসব আইডি ব্লক করছে। আমি মনে করি ফেইসবুকের এই নীতিগুলোর বিশদ বিশ্লেষণ দরকার। সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমগুলোর এ বিষয়ে দায়িত্ব পালন করা উচিত। এসব বিষয়কে সামনে নিয়ে আসা দরকার যাতে ফেইসবুককে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনা যায়। ফেইসবুক বলছে তারা এক্ষেত্রে ‘এআই’ বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে, বিভিন্ন ‘কি ওয়ার্ড’ মনিটর করে দেখে যে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে কি না। কিন্তু দেখা দরকার যে ফেইসবুক বাংলা ভাষায় এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রয়োগ করছে কি না, কিংবা আমাদের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার শব্দগুলোকে তারা মনিটর করছে কি না। তারা কীভাবে এসব পর্যালোচনা করছে এসব বিষয় বিশদভাবে জানা দরকার।

ফলে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ কেবল আইনের বিষয় নয়, এসব বিষয়ে জোর দিতে হবে। আমি বলব আইসিটি মন্ত্রণালয়ের একটা বড় দায়িত্ব হচ্ছে কোন কোন উৎস থেকে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে সেসব খুঁজে বের করা, তাদের চিহ্নিত করা। এক্ষেত্রে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে এবং এজন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রণালয় একটা সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারে। আমরা এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে উগ্রবাদী ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর কাছে, ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তিদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে দিতে পারি না। দেশের ভেতরে-বাইরে সক্রিয় এমন গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের যেমন চিহ্নিত করতে হবে তেমনি ফেইসবুক-ইউটিউবসহ সামাজিক মাধ্যমগুলোর কর্তৃপক্ষকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এ বিষয়গুলো এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং এজন্য জাতিসংঘের এজেন্সিও আছে। আমি মনে করি তাদের সঙ্গে আমাদের একটা রাষ্ট্রীয় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। সমাজে ও রাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় এটা এখন জাতীয় কর্তব্য হয়ে পড়েছে।       

দেশ রূপান্তর : সমাজে ধর্মীয় বিদ্বেষ আর ধর্মান্ধতার বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে শিক্ষকরাও এসব কারণে আক্রান্ত হচ্ছেন। শিক্ষক নির্যাতনের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে পাঠদানকালে কিংবা অন্য কোনোভাবে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে। খেয়াল করার মতো বিষয় হলো, শিক্ষক নিপীড়ন-নির্যাতনের সবশেষ ঘটনাগুলোর সবচেয়ে আলোচিত চারটি ঘটনাতেই আক্রান্ত শিক্ষকরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। প্রশ্ন উঠেছে যে, এসব হামলা কোনো বিশেষ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কি না কিংবা এসব নিপীড়নের নেপথ্যে সমাজের সাম্প্রদায়িক বিভেদ অথবা উগ্র ধর্মীয় রাজনৈতিক মতাদর্শের কোনো ভূমিকা আছে কি না?

মফিদুল হক : এটা খুবই ভয়ংকর অশনি সংকেত। শিক্ষকদের ওপর হামলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের বিষয়ে আজ যে সংকটের মধ্যে আমরা পড়েছি এটা বাংলাদেশের জন্য বাঙালি জাতির জন্য একটা ভয়াবহ বিপর্যয়। এই বিষয়টিকে যদি আমরা কেবল সাম্প্রদায়িকতার সমস্যা হিসেবে দেখি তাহলে খুবই ভুল হবে। এখানে দুটো বিষয় আছে। প্রথমত, যে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির অজুহাতে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে তার সঙ্গে প্রকৃত অর্থে ইসলাম ধর্ম কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাসের কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামই হোক বা অন্য কোনো ধর্ম, ধর্মের মূল শিক্ষা এখানে পদদলিত হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, এটাকে সাম্প্রদায়িক সমস্যা বলে মনে করে যদি ভাবি যে এতে দেশের হিন্দুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাহলে বিষয়টাকে ছোট করে দেখা হবে। আসলে শিক্ষা ও শিক্ষকদের ওপর এমন হামলার ঘটনায়, এমন দৃষ্টিভঙ্গির প্রসারের ঘটনায় পুরো সমাজ, পুরো দেশ জাতিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের সমাজের যে ঐতিহাসিক অসাম্প্রদায়িক গঠন, এখানকার মানুষের যে সহনশীলতা সেটা নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক বাতাবরণটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রেও সামাজিক মাধ্যমগুলোর নির্বিচার ব্যবহার খুবই নেতিবাচক প্রভাব রাখছে। এখন দেশে যে ‘কিশোর গ্যাং’ বলে যে গোষ্ঠীগুলো গড়ে উঠেছে তাদের মধ্যে কিন্তু সাম্প্রদায়িক বিবেচনা নেই। তারা হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাইকে আক্রমণ করছে। জনসংখ্যার কারণে দেখা যাবে মুসলিমরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্র থেকে শুরু করে কিশোর-তরুণদের এই বিপথগামিতা কেন হচ্ছে, কোন কোন কারণগুলো এজন্য দায়ী সেসব অনুসন্ধান করা দরকার। আমাদের অবশ্যই এই বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুধাবন করা দরকার। কারণ এসব বিষয়কে কেবল সাম্প্রদায়িক সমস্যা হিসেবে দেখলে আমরা এটা রোধ করতে পারব না। এটা আমার সমস্যা, আপনার সমস্যা, পুরো সমাজের সমস্যা। আমাদের সমাজ বিনষ্টির পথে ধাবিত হচ্ছে।

তবে এটা ঠিক যে এসব সংকটের একটা বড় উৎস সাম্প্রদায়িকতা। আর সাম্প্রদায়িকতা মানে হচ্ছে সম্প্রদায়গত বিবেচনায় অপরের প্রতি বিদ্বেষ। অপর ধর্ম, অপর বিশ্বাস, অপর আচার, অপর রীতিনীতিকে যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অসম্মান করবে, আঘাত হানবে সেটাই সাম্প্রদায়িকতা। এখন এই সাম্প্রদায়িকতা কেবল হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের বিষয় নয়। একই ধর্মের মধ্যেও ভিন্ন বিশ্বাসের ব্যক্তি-গোষ্ঠীও এমন সাম্প্রদায়িকতায় আক্রান্ত হতে পারে। যেমন মুসলিমদের মধ্যেও শিয়া-সুন্নিসহ আরও অনেক গোষ্ঠী আছে। আবার আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন ধর্মের যারা উদার মানসিকতার, মানবতাবাদী চিন্তাভাবনার চর্চা করছে তারাও ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক কালে দেশের বাউল-ফকিরসহ নানা মত-পথের গোষ্ঠীগুলোর ওপর আক্রমণগুলো এক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া দরকার। সমাজকে এই পতন থেকে টেনে তুলতে হলে রাষ্ট্র, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের সবাইকেই নিজ নিজ দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতে হবে।