উত্তরবঙ্গের ৩ জেলায় শিল্পোন্নয়নে ১৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প

পঞ্চগড়ে দুই শতাধিক চা বাগান, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর এলাকায় জুটমিল, সুগারমিল, কয়লাখনিসহ শতাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। কিন্তু অনুন্নত রাস্তা ও অবকাঠামোর কারণে পিছিয়েই থাকছে উত্তরের এই তিন জেলার ২৩ উপজেলা। এজন্য রংপুর বিভাগের এসব জেলার পল্লী এলাকায় আধুনিক নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষি ও অকৃষি পণ্য বাজারজাতের সুযোগ তৈরির জন্য ‘বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

গত মঙ্গলবার প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটিতে মধ্যমেয়াদি বাজেট অর্থায়ন (এমটিবিএফ) থেকে খরচ করা হবে। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুকূলে চলতি অর্থবছর এবং আগামী ৩ অর্থবছরে এমটিবিএফের বরাদ্দ ও চাহিদার মধ্যে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, প্রকল্পটির মাধ্যমে উত্তরের তিন জেলার ২৩ উপজেলার প্রায় ৩৮৬ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, গ্রামীণ সড়ক ৯৩২ কিলোমিটার, সেতু নির্মাণ প্রায় ৩৮৩ মিটার এবং ১৯ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক নির্মাণ করা হবে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গ্রামীণ সড়ককে দুর্যোগ সহনীয় ২ লেন সড়কে উন্নীতকরণের কথা বলা হয়েছে। সে লক্ষ্যে, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ বা পুনর্বাসন ও ইউনিয়ন সড়কের ইন্টারসেকশন নিরাপদকরণ করা হবে। এছাড়া, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) উল্লিখিত কৃষির প্রসার এবং টেকসই শিল্পায়নের কথা মাথায় রেখে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি হাতে নেওয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে বলা হয়েছে, পঞ্চগড়ে দুই শতাধিক চা বাগান রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে এ অঞ্চলে চা উৎপাদন আরও বাড়িয়ে রপ্তানিও বাড়ানো সম্ভব হবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলায় সুগারমিল, জুটমিল, রেশম কারখানা, দিনাজপুর জেলায় চিনিকল, পাটকল ও শতাধিক চালকল রয়েছে। এছাড়া পঞ্চগড় জেলার নুড়ি পাথর রয়েছে। যা সারা দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। বড়পুকুরিয়ার উন্নতমানের কয়লা ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা অবকাঠামো নির্মাণে সারা দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। কয়লা উত্তোলনের ফলে জ¦ালানি খাতে বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। বৃহত্তর দিনাজপুরের জেলাগুলোর রাস্তা, কালভার্ট ও ব্রিজ উন্নয়নের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের বেশিরভাগই খরচ হবে সড়ক ও ব্রিজ উন্নয়নে। ব্যয় বিভাজন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯ কিলোমিটার উপজেলা সড়কের উন্নয়নে খরচ হবে ২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ৩৮৬ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়কে ব্যয় হবে প্রায় ৫৩০ কোটি টাকা। অবশ্য প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৬১ শতাংশ ব্যয় হবে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে। ৯৩২ কিলোমিটার সড়কে খরচ হবে প্রায় ১ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। ২৩ কিলোমিটার সড়কে সবুজায়নে খরচ হবে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

অঙ্গভিত্তিক ব্যয় বিভাজনে দেখা যায়, উপজেলা সড়ক উন্নয়ন, ইউনিয়ন সড়ক উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়কে ব্রিজ নির্মাণ, সড়ক পুনর্বাসন, বৃক্ষরোপণ, প্রাইস ও ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি খাতে প্রকল্পের ৯৮ শতাংশ অর্থ ব্যয় হবে।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে প্রথাগত চা বাগানের বাইরে প্রথম চা-চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৯৯ সালে, পঞ্চগড়ে। বাড়ির পাশে বা অনাবাদি, পতিত জমিতে সীমিত আকারে চলছে এর চাষাবাদ। চা-চাষের বিশেষজ্ঞরা একে বলেন, ক্ষুদ্র পরিসরে (স্মল হোল্ডিং) চায়ের আবাদ।

প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে গত ৬ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ডাক, টেলিফোন অফিস ভবন ভাড়া, আসবাবপত্র, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ, অন্যান্য মেরামত ও সংরক্ষণ বাবদ ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকৌশল ও অফিস সরঞ্জামাদি কেনার পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।